“আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি!”-নিজের সম্মান বাঁচাতে এবার গর্জে উঠলেন মিমি চক্রবর্তী।

ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন প্রাক্তন সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকলেও নিজের জগৎটা ছোট রাখতেই ভালোবাসেন তিনি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে নিয়ে চলা একাধিক বিতর্ক ও সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম অভিনেত্রীর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার জন্য যথেষ্ট হয়েছে। এবার নিজের সম্মান রক্ষার্থে কার্যত যুদ্ধের ডাক দিলেন মিমি।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?

চলতি বছরের শুরুতে বনগাঁর এক অনুষ্ঠানে গিয়ে মাঝপথে স্টেজ থেকে নেমে আসতে হয় মিমিকে। অভিযোগ ওঠে, আয়োজক তনয় শাস্ত্রী তাঁকে হেনস্থা করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৪ দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পান তনয়। আর মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি মিমির বিরুদ্ধে পাল্টা মানহানির মামলা দায়ের করেন। এই গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যা মিমির নজরে আসতেই তিনি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন।

কী বললেন মিমি?

মিমি এই পুরো বিষয়টিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন। এই ধরনের ভিত্তিহীন খবর বা ব্যক্তিগত আক্রমণ যে তাঁর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন নায়িকা। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি তাঁকে নিয়ে এমন কোনো মিথ্যে বা যাচাই না করা খবর ছড়ানো হয়, তবে তিনি চুপ থাকবেন না। সরাসরি আইনি পথে হেঁটে কড়া ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

অভিনেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমার বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলার আগে দয়া করে তথ্য যাচাই করে নিন। আমি কোনোভাবেই এই ধরনের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেব না।”

রাজনীতি থেকে অভিনয়, বর্তমানে মিমির জীবন

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন মিমি চক্রবর্তী। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সরে এসে আপাতত নিজের অভিনয়ের জগত এবং প্রিয় পোষ্যদের নিয়েই মজে আছেন তিনি। ট্রোলিং বা কটাক্ষকে তিনি বরাবরই উপেক্ষা করতে পছন্দ করেন, কিন্তু এবার বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্মান ও আইনি জটিলতায় পৌঁছে যাওয়ায় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হলেন।

চলচ্চিত্র দুনিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে এই নতুন বিতর্কে নায়িকা যে কোনোভাবেই নমনীয় হতে রাজি নন, তা তাঁর এই কঠোর বার্তাতেই স্পষ্ট।