বজরং দলের নেতার রহস্যমৃত্যু! গাছে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগে উত্তাল সাহারানপুর

উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের শাকাম্ভরী এলাকায় বজরং দলের এক বিভাগীয় সমন্বয়কারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি মাঠে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই যুবকের মৃতদেহ দেখতে পান। মৃত যুবকের নাম শিবম ভার্মা (৩০)। তিনি বিজনোরের হলদৌরের বাসিন্দা ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত:
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে নাগালমাফি গ্রামের কাছে এক যুবকের দেহ ঝুলতে দেখেন গ্রামবাসীরা। মির্জাপুর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং যুবকের পকেট থেকে পাওয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবম তাঁর মায়ের সঙ্গে দেরাদুনে ছিলেন। বুধবার রাতে একটি রহস্যময় ফোন আসার পরই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর তাঁর খোঁজ মেলেনি।

খুনের জোরালো সন্দেহ:
ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে করার প্রাথমিক কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃতদেহটির পা দুটি বাঁকানো অবস্থায় ছিল, যা থেকে এটি একটি পরিকল্পিত খুন বলেই মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ, মৃত্যুর পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য দেহটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দড়ি, সিগারেট এবং লাইটার উদ্ধার করেছে।

তদন্তে পুলিশ:
খবর পাওয়া মাত্রই এসএসপি অভিনন্দন সিং এবং এসপি রুরাল মায়ঙ্ক পাঠক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। খবর পেয়ে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিবমের মোবাইলের সেই ‘লাস্ট কল’-কে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আত্মহত্যা নাকি খুন—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং কল ডিটেইলস (CDR) হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।”