পুরনো পেনশনে ফিরবে সরকার? অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে বাড়ছে জল্পনা, কী বলছে ইউনিয়ন?

দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রধান দাবি হলো—ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (এনপিএস) বাতিল করে পুনরায় পুরাতন পেনশন ব্যবস্থা (ওপিএস) চালু করা। অষ্টম বেতন কমিশন (৮ম সিপিসি) গঠনের পর এই বিতর্ক আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। যদিও কর্মচারী ইউনিয়নগুলো স্বীকার করেছে যে, রাতারাতি এনপিএস পুরোপুরি বাতিল করে ওপিএস-এ ফিরে যাওয়া কার্যত অসম্ভব।
কেন কর্মচারীরা ওপিএস-এর দাবিতে অনড়?
অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF)-এর মতে, ওপিএস কেবল একটি পেনশন ব্যবস্থা নয়, এটি অবসরোত্তর সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার প্রতীক। ওপিএস-এ অবসরপ্রাপ্তরা শেষ বেতনের ৫০ শতাংশ নিশ্চিত পেনশন ও মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পান। অন্যদিকে, এনপিএস পুরোপুরি বাজার-সংযুক্ত হওয়ায় পেনশনের পরিমাণ অনিশ্চিত। ফেডারেশনের দাবি, এনপিএস-এর অধীনে অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মাসে মাত্র ২০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাচ্ছেন, যা মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জীবনধারণের জন্য একেবারেই পর্যাপ্ত নয়।
পুরনো ব্যবস্থায় ফেরা কেন কঠিন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এনপিএস বাতিলের পথে প্রধান বাধা হলো বিশাল পরিমাণ আর্থিক বিনিয়োগ। গত ২০ বছরে এনপিএস তহবিলে প্রায় ১৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এই বিপুল অর্থ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন—এলআইসি, এসবিআই এবং ইউটিআই-এর মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগ করা আছে।
এআইএনপিএসইএফ-এর সভাপতি ডঃ মনজিৎ সিং প্যাটেল জানিয়েছেন, “এই টাকা হঠাৎ তুলে নেওয়া প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। এছাড়া এনপিএস পুরোপুরি বন্ধ হলে বাজারে তারল্য বা নগদ অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।”
অষ্টম বেতন কমিশনের ওপর নজর:
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন অষ্টম সিপিসি ২০২৫ সালের নভেম্বরে তার কার্যক্রম শুরু করেছিল। বর্তমানে এর ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর দেশের প্রায় ৫০ লক্ষ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
এখন দেখার বিষয়, সরকার একদিকে ক্রমবর্ধমান বাজারের চাহিদা এবং অন্যদিকে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে কী ভারসাম্য তৈরি করে।