‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে থাকতে চাই না! মেয়র পদে ইস্তফা দিয়ে বিস্ফোরক ফিরহাদ হাকিম

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন তিনি। চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আবেগপ্রবণ ফিরহাদ নিজের সিদ্ধান্তের সপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

কেন ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ? মেয়র হিসেবে ইস্তফা দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। নিজেকে ‘নিধিরাম সর্দার’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমি মেয়র ছিলাম, আবার পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীও ছিলাম। ফলে পুরসভার পরিকল্পনাগুলো সেখান থেকে স্যাংশন করিয়ে আনতে অসুবিধা হতো না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে, কাজগুলো আর সেভাবে হচ্ছে না। তাই এই চেয়ারের মর্যাদা রাখতে না পেরে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’

নেতাজিকে নিয়ে আবেগ ও আক্ষেপ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস বা সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান ব্যক্তিত্বরা যে চেয়ারে বসেছেন, সেখানে নিজের আসীন থাকাকে একসময় কল্পনাও করতে পারেননি ফিরহাদ। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘‘নেতাজি কোমর সমান জল পেরিয়ে ঠনঠনিয়া গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিলেন। তাঁকে সম্মান জানানোর অনেক ইচ্ছা ছিল, তা আর হলো না।’’ এই আক্ষেপ থেকেই তিনি আর এই চেয়ার আঁকড়ে পড়ে থাকতে চাননি।

সাড়ে সাত বছরের চ্যালেঞ্জ ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে সাত বছর মহানাগরিকের দায়িত্ব সামলেছেন ফিরহাদ। নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি জানান, কোভিড মহামারী ও আমফান ঘূর্ণিঝড় সামলানোই ছিল তাঁর মেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া বেআইনি নির্মাণ রুখতে ও নিকাশি সমস্যার সমাধানে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন।

ভবিষ্যৎ কী? ফিরহাদের ইস্তফার পর কলকাতা পুরসভা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, পুরো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পুরসভা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যদিও ফিরহাদ তাঁর পদত্যাগপত্রে কোনো বিস্তারিত কারণ লেখেননি, কেবল ১৯৮০ সালের কেএমসি আইন অনুযায়ী পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন।

ফিরহাদ হাকিমের এই ইস্তফা কলকাতা পুরসভার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এল। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর ও মেয়র হিসেবে তাঁর বিদায়কে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে।