শওকতের ‘রাজপ্রাসাদ’-এ ঢুকতে দেওয়া হল না স্ত্রী-মেয়েকে, কোথায় তৃণমূল নেতা?

ভোটের আগে বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে বৃহস্পতিবার দিনভর ভাঙড়ে দাপিয়ে বেড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার জীবনতলার বাড়ি থেকে শুরু করে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লার ঝাঁ-চকচকে ক্যাফে ‘অরণ্যকূল’—সবই ছিল তল্লাশির আওতায়। তবে দিনভর তল্লাশিতেও শওকতের কোনো হদিশ মেলেনি। এদিকে, এই তল্লাশি চলাকালীন নিজের বাড়িতেই ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় শওকতের স্ত্রী সায়ের বানু এবং মেয়ে শাবানাকে।

নিজেদের বাড়িতেই অবরুদ্ধ স্ত্রী-কন্যা এদিন জীবনতলার পেল্লায় বাড়িতে নিজেদের গাড়িতে করে পৌঁছন শওকতের স্ত্রী ও কন্যা। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের সাফ জানিয়ে দেয়, ওপর মহলের নির্দেশ আছে—বাইরের কেউ ঢুকতে পারবেন না এবং ভেতর থেকে কেউ বেরোতে পারবেন না। হতাশ মেয়ে শাবানা প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে, অথচ গেট খোলা হচ্ছে না। আমরা কোথায় বসব?” শেষ পর্যন্ত গেটের বাইরে গাড়িতেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। কোথায় শওকত? স্ত্রীর দাবি, “শরীর খারাপ নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম, শওকত কোথায় জানি না।” মেয়ের দাবি, বাবা গতকাল থেকেই বাড়ি ছাড়া।

নদী বুজিয়ে ক্যাফে, অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল নেতা তদন্তকারী সংস্থা শুধু বাড়িতেই নয়, তল্লাশি চালিয়েছে শওকতের ছেলে ইমরানের ‘অরণ্যকূল’ ক্যাফেতেও। এই অভিযানের পরই ইমরানকে আটক করে NIA। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে জায়গায় আজ বিলাসবহুল ক্যাফে দাঁড়িয়ে, একসময় সেখানে নদী ছিল। বেআইনিভাবে জমি ভরাট করেই এই নির্মাণ। স্থানীয়দের আরও দাবি, মাছ চুরির কারবার করেই এলাকায় অঢেল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন শওকত।

জাল গোটানোর পথে NIA? শুধুমাত্র জীবনতলাই নয়, NIA-এর টিম হানা দিয়েছে ভাঙড় থানার নলমুড়ি এবং উত্তর কাশীপুরের রঘুনাথপুর গ্রামে। বোমা বাঁধার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত অহিদুল ইসলামকে ঘিরেও তদন্ত চলছে। প্রায় চার ঘণ্টা তল্লাশির পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করে NIA আধিকারিকরা বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় পৌঁছন।

উল্লেখ্য, কয়েক একর জমি, সোনাদানা এবং ৩৬ লক্ষ টাকা মূল্যের এই বাসভবনসহ শওকত মোল্লার পরিবারের বিপুল সম্পত্তির হিসেব এখন তদন্তকারীদের নজরে। বিধায়ক শওকত আপাতত অন্তরালে, কিন্তু NIA-এর এই সাঁড়াশি অভিযানে ভাঙড়ের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।