১১ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে মেগা নিয়োগের ঘোষণা! পঞ্চায়েতে দুর্নীতি ঠেকাতে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মাস্টারস্ট্রোক

পঞ্চায়েত স্তরে লাগামহীন দুর্নীতি রুখতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার রাজ্য জুড়ে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় অ্যাকশন নিল রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে একই আসনে আসীন থাকা পঞ্চায়েত কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক বিশাল বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নবান্ন ও প্রশাসনিক মহলের স্পষ্ট মত, এক জায়গায় বছরের পর বছর দায়িত্ব সামলানোর ফলে কাজের স্বচ্ছতা ব্যাহত হচ্ছিল, আর সেই কারণেই এই জরুরি রুটিন বদলি ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত পঞ্চায়েত কর্মী টানা তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে অন্য জায়গায় বদলি করতে হবে। এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশ ইতিমদ্যেই প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের (DM) কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ জেলার মধ্যে এমন কর্মীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
বৃহস্পতিবার ‘মৃত্তিকা ভবন’-এ আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই মেগা সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই স্থানে কাজ করার ফলে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছিল, যা গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতেই এই রোটেশন পলিসি বা আবর্তন নীতি চালু করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১১০০ জন এমন পঞ্চায়েত কর্মী রয়েছেন যাঁরা তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় কাজ করছেন। চলতি জুন মাসের মধ্যেই তাঁদের এই বদলি প্রক্রিয়া ১০০ শতাংশ সম্পন্ন করার ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে বলা হয়েছে। শুধু বদলিই নয়, পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার থেকে নিয়মিত ‘অডিট’ ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। এতদিন পর্যন্ত অডিট অনিয়মিতভাবে হতো বলে অকপটে স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কড়া অডিট করা হবে, যাতে সরকারি তহবিলের কানাকড়িরও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং কোনো ধরনের আর্থিক গরমিল ধরা পড়লে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
পাশাপাশি, পঞ্চায়েত স্তরে নিয়োগ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এদিন এক বিরাট সুখবর ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় এই মুহূর্তে মোট ১১,১৫৪টি শূন্য পদ রয়েছে। যার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা বা মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইতিমধ্যেই ৬,৫৩৬টি শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তবে কিছু কারণে এখনও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। তবে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সমস্ত নিয়োগই সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। কোনোভাবেই অস্বচ্ছ বা অস্থায়ী পদ্ধতিতে ব্যাকডোর এন্ট্রি বা নিয়োগ করা হবে না।” মন্ত্রীর এই জোড়া ঘোষণায় একদিকে যেমন পঞ্চায়েত স্তরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন করে আশার আলো জেগেছে।