রাস্তায় নামছে উবারের ৫০০ ‘গুপ্তচর’ গাড়ি! রোবোট্যাক্সির দুনিয়ায় তোলপাড় ফেলা মেগা প্রজেক্ট

অটোপাইলট বা স্বচালিত গাড়ির (Autonomous Vehicle) প্রযুক্তিকে এক ধাক্কায় কয়েক যুগ এগিয়ে দিতে এবার বিশ্বজুড়ে বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিল উবার (Uber)। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাস্তায় নামানো হচ্ছে ৫০০টি বিশেষ ডাটা-কালেকশন গাড়ি। এই গাড়িগুলির মূল কাজ হবে বাস্তব রাস্তায় চলাচলের সময় বিভিন্ন ধরনের জটিল ড্রাইভিং ডেটা সংগ্রহ করা, যা ভবিষ্যতের রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে বিপ্লব এনে দেবে।
উবারের নবগঠিত ‘এভি ল্যাবস’ (AV Labs) বিভাগের অধীনে এই হাই-টেক প্রকল্প চালানো হচ্ছে। সংস্থার দাবি, এই ৫০০টি বিশেষ গাড়ি প্রতি মাসে গোটা বিশ্ব থেকে প্রায় ২০ লাখ মাইল উচ্চমানের ড্রাইভিং ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, চলতি বছরের গ্রীষ্মের মধ্যেই প্রাথমিক ধাপে ৫০টি গাড়ি রাস্তায় নামানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে উবারের।
১৪টি ক্যামেরা আর ৯টি রাডার! কী থাকছে এই গাড়িতে?
বিপুল পরিমাণ নিখুঁত ডাটা সংগ্রহের জন্য উবার বেছে নিয়েছে হুন্ডাইয়ের জনপ্রিয় ‘Hyundai Ioniq 5’ বৈদ্যুতিক গাড়িকে। বাইরে থেকে দেখলে একে সাধারণ ইভি মনে হলেও, এই গাড়ির ভেতরে ও বাইরে রয়েছে অত্যাধুনিক সেন্সর ও নজরদারির ব্যবস্থা। প্রতিটি গাড়িতে বসানো থাকছে ১৪টি হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা, ৮টি সলিড-স্টেট LiDAR সেন্সর এবং ৯টি শক্তিশালী রাডার। এখানেই শেষ নয়, এই সমস্ত রিয়েল-টাইম ডাটা প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে টেক জায়ান্ট এনভিডিয়া-র যুগান্তকারী ‘Dual Drive Thor’ কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম।
তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে উবার। সংস্থাটি এখন আর নিজেদের ব্র্যান্ডে সরাসরি কোনও রোবোট্যাক্সি তৈরি করছে না। পরিবর্তে তারা Waymo, WeRide, Waabi, Nuro-সহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি স্বচালিত গাড়ি প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। সহজ কথায়, উবার এখন এই সমস্ত বড় বড় সংস্থার জন্য প্রধান ডেটা সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এভি ল্যাবস-এর মাধ্যমে সংগৃহীত বৈচিত্র্যময় ডাটা এই অংশীদার সংস্থাগুলির স্বচালিত সফটওয়্যারকে আরও নিখুঁত ও নিরাপদ করে তুলতে ব্যবহার করা হবে।
উবারের মূল লক্ষ্য হল বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের রাস্তার তথ্য, ট্রাফিক ব্যবস্থা ও আবহাওয়ার লাইভ আপডেট সংগ্রহ করে একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ডাটাবেস তৈরি করা। সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডেটা স্বচালিত গাড়িগুলোকে বাস্তব জীবনের জটিল, ঘিঞ্জি ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করবে।
ভারতের জন্য মেগা সুখবর:
বিশ্বব্যাপী এই প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ভারতের জন্য এক বিরাট উপহারের কথা ঘোষণা করেছেন উবারের সিইও (CEO) দারা খোসরোশাহী। সম্প্রতি ভারত সফরে এসে তিনি দেশের দুটি প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি হাবে দুটি বিশাল ক্যাম্পাস চালু করার কথা জানিয়েছেন। হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি ও বেঙ্গালুরুতে তৈরি হচ্ছে উবারের এই দুটি হাই-টেক অফিস। এই অফিসগুলি থেকে মূলত প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ করা হবে, যা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বজুড়ে উবারের প্রযুক্তিগত পরিষেবাকে ব্যাক-এন্ড সাপোর্ট দেবে। এর ফলে ভারতের টেক দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।