ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডানা ছাঁটল মার্কিন সংসদ! বিশ্বজুড়ে মহার্ঘ্য তেলের বাজার, এবার কি থামবে ইরান যুদ্ধ?

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবার এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করল আমেরিকার আইনসভা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা খর্ব করতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। যদিও এই প্রস্তাব পাস হওয়ার পরেই যে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এখনই থমকে যাবে, তেমনটা নয়। নিম্নকক্ষে সবুজ সংকেত মেলার পর এই প্রস্তাব এবার যাবে উচ্চকক্ষ সেনেটে। সেখানে পাস হওয়ার পরেই ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাঁটার এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়বে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। মার্কিন মদতে ইরানের রাজধানী তেহরানে এক অতর্কিত ও বড়সড় সামরিক হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। তারপর থেকেই গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
উল্লেখ্য, এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে, যা এক বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা টেবিলে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তা এখনও পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি এবং হরমুজ প্রণালীও অবরুদ্ধই রয়ে গেছে।
এই চরম সংকটের আবহেই ট্রাম্পের একতরফা ক্ষমতা হ্রাস করতে মার্কিন নিম্নকক্ষে ভোটাভুটি হয়। সবথেকে বড় চমক ছিল, ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানের চারজন প্রভাবশালী সদস্য— থমাস মাসি, ব্রায়ান ফিটসপ্যাট্রিক, টমাস ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি পাস হয়।
এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে নিম্নকক্ষে প্রস্তাব পাসের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে স্পিকার মাইক জনসন হঠাৎ অধিবেশন বন্ধ করে দেওয়ায় তা আটকে যায়। তবে এবার আর ট্রাম্পপন্থী শিবির তা রুখতে পারেনি। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তথা হাউজের বৈদেশিক সংক্রান্ত কমিটির অন্যতম সদস্য গ্রেগরি মিক্সের নেতৃত্বে এই বিলটি উত্থাপিত হয়। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে গ্রেগরি বলেন, “অনেক হয়েছে। এবার সময় এসেছে, প্রেসিডেন্টকে সঠিক কাজটা করতে হবে। তাঁর পছন্দের যুদ্ধের ফল ভোগ করতে করতে সাধারণ মানুষ আজ ক্লান্ত। গ্যাস পাম্প থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট— সর্বত্রই সাধারণ মানুষ চরম যন্ত্রণা ভোগ করছে।”
বাস্তবিকই, হোয়াইট হাউসের মসনদে বসার আগে নির্বাচনী প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাঁর আমলে আমেরিকা কোনও নতুন যুদ্ধে জড়াবে না এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানই হবে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে বারবার সংঘাতে জড়িয়েছেন তিনি। মার্কিন আইনসভার এই নয়া পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।