‘ভোটের কালি শুকোনোর আগেই পার্টি ফিনিশ!’ তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা স্পষ্ট হলো বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে। প্রাতঃভ্রমণে এসে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে রীতিমতো তুলোধনা করলেন তিনি। তাঁর দাবি, পরাজয়ের ধাক্কায় তৃণমূলের সংগঠন কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে।
‘পিসি-ভাইপো কেন্দ্রিক দল’:
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, বর্তমানে তৃণমূলের অস্তিত্ব কেবল ‘পিসি-ভাইপো’র মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, “ভোটের কালি এখনও শুকোয়নি, অথচ পার্টি ফিনিশ হয়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা—কোথাও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। মাত্র ৯১ লক্ষ ভোট কমতেই দলটা ভূত হয়ে গেল! চোরেদের নিয়ে সংগঠন গড়লে তা যে এমন রাতারাতি উবে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক।”
মুসলিম ভোট ও ললিপপ তত্ত্ব:
ফিরহাদ হাকিম ও হুমায়ুন কবীরের নাম না করে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে মুসলিম সমাজকে শুধুমাত্র ‘ললিপপ’ দেওয়া হয়েছে, কোনো উন্নয়ন হয়নি। উভয় সম্প্রদায়ের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, “আমরা যদি আজ দরজা খুলে দিই, তবে পঞ্চায়েত বা পুরসভায় তৃণমূলের অস্তিত্বই থাকবে না।”
আইন ও এজেন্সি নিয়ে হুঙ্কার:
বিভিন্ন নেতার কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের মুখে পড়া নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলরা শরীর খারাপের নাটক করেছিলেন, কিন্তু লাভ হয়নি। আইন আইনের পথেই চলবে।” অরূপ বিশ্বাস ও কুণাল ঘোষের নাম নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। বলেন, “পার্টির লোকেদের এতদিন কথা বলতে দেওয়া হয়নি, এবার পুলিশের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে।”
এনআইএ তদন্ত ও জয়প্রকাশ মজুমদার:
শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ (NIA) তল্লাশি নিয়ে দিলীপের দাবি, নাড্ডার গাড়িতে হামলার ঘটনায় সে মূল হোতা ছিল। অন্যদিকে, জয়প্রকাশ মজুমদারের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “উনি ঠিক জায়গাতেই গিয়েছেন। আগে জেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল, এবারও সেখানে গিয়েই ভালো করেছেন।”
তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর সাফ জবাব, “তৃণমূলের আবার আসল-নকল কী? খারাপ তো খারাপই!”