‘আরশোলা’ অপমানেই জাগল জেন-জি! শশীর পথে কি নতুন রাজনৈতিক বিপ্লব?

দেশজুড়ে নিট (NEET) ও অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস এবং সিস্টেমের ব্যর্থতায় যখন ক্ষুব্ধ ভারতের তরুণ প্রজন্ম, ঠিক সেই সময়েই উঠে এল এক অভিনব ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মঞ্চ— ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। ৬ জুন যন্তরমন্তরে এই মঞ্চ থেকেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আর এই তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর।

কীভাবে জন্ম নিল এই ‘ককরোচ পার্টি’?
ঘটনার সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি শুনানিতে। অভিযোগ ওঠে, প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যে চাকরিপ্রার্থী যুবকদের ‘আরশোলা’ (Cockroach) ও ‘পরজীবী’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। যদিও পরে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে মন্তব্যটি ছিল জাল ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে, কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদেই ব্যঙ্গাত্মকভাবে তৈরি হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র পাঁচ দিনে ইনস্টাগ্রামে ২ কোটির বেশি মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তরুণদের উদ্দেশ্যে শশী তারুরের খোলা চিঠি
প্রবীণ এই কূটনীতিবিদ ও সাংসদ ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ লেখা এক নিবন্ধে তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও ক্ষোভকে পুরোপুরি সমর্থন করেছেন। তারুর স্পষ্ট বলেছেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রের দুর্নীতি এবং সিস্টেমের ব্যর্থতা কোনো হেডলাইন নয়, এটি একটি গোটা প্রজন্মের স্বপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।” তবে শুধুমাত্র আবেগ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মিম-নির্ভর প্রতিবাদে যে কাজ হবে না, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেছেন।

আন্দোলনের জন্য তারুরের ৩টি ‘মাস্টার প্ল্যান’:
১. জবাবদিহিতার চাপ: স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদদের দপ্তরে হাজার হাজার চিঠির বন্যা বইয়ে দাও। তাঁদের বাধ্য করো সংসদে এই দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে।
২. আরটিআই (RTI)-র অস্ত্র: তথ্য জানার অধিকার বা আরটিআই আইনের ব্যাপক ব্যবহার করো। কর্তৃপক্ষ যখন অন-রেকর্ড জবাব দিতে বাধ্য হবে, তখন তাদের অস্বস্তি বাড়বে।
৩. আন্দোলনের পেশাদারিকরণ: শুধু স্লোগান নয়, আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নাও। আবেগী ভাষাকে আইনি ভাষায় রূপান্তর করো, যাতে প্রশাসন এড়াতে না পারে।

‘সিস্টেমের বাইরে নয়, ভেতরে ঢোকো’
শশী তারুর তরুণদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন, “তোমরাই দেশের জনমিতির সংখ্যাগুরু। ইনস্টাগ্রাম কোনো ব্যালট বক্স নয়। তাই শুধু ডিজিটাল ক্ষোভ নয়, মূলধারার রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্বের সাথে যুক্ত হয়ে সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে একে নতুন করে গড়ার কারিগর হও।”

আন্দোলনের নতুন রূপরেখা
ইতিমধ্যেই এই জনজোয়ারকে সুসংগঠিত করতে অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাসসহ তিনজনের একটি মুখপত্র কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বুধবার দিল্লিতে তারা প্রথম সাংবাদিক বৈঠকও করেছে। ৬ জুন যন্তরমন্তরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে এখন দিল্লির রাজনীতিতে পারদ চড়ছে।