একবার নয়, দু’বার বিক্রি! টাকার লোভে তরুণীকে নিয়ে পৈশাচিক খেলা, তৃতীয় বিয়ের মুখেই যা ঘটল…

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর থেকে মানব পাচার এবং সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে স্রেফ টাকার লোভে এক অসহায় তরুণীকে পশুর মতো দু-দু’বার বিভিন্ন রাজ্যে বিক্রি করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, পৈশাচিকতার সীমা ছাড়িয়ে যখন অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে তৃতীয়বার বিক্রি করার ছক কষছিল, ঠিক তখনই কোনোমতে তাদের কবল থেকে পালিয়ে সোজা পুলিশের দ্বারে পৌঁছান ভুক্তভোগী। তরুণীর মুখ থেকে নরকযন্ত্রণার এই কাহিনী শুনে শিউরে উঠেছেন খোদ দুঁদে পুলিশ কর্তারাও।
সাহায্যের নামে পাতা হয়েছিল ফাঁদ, হরিয়ানায় প্রথম বিক্রি
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোরখপুরের চৌরি চৌরা থানা এলাকায়। ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরই গ্রামের তিন ব্যক্তি তাঁকে ভালো কাজের ও সুন্দর ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে হরিয়ানায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এক যুবকের সাথে জোর করে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। প্রথম স্বামী মারাত্মক মদ্যপ ছিল এবং প্রায়শই তরুণীর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। সহ্য করতে না পেরে তরুণী যখন গ্রামের সেই মধ্যস্থতাকারী দালালদের কাছে কান্নাকাটি করে অভিযোগ জানান, তখন তাঁরা সাহায্যের ভান করে তাঁকে সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
রাজস্থানে দ্বিতীয়বার বিক্রি ও গর্ভপাতের নির্মম অত্যাচার
হরিয়ানা থেকে ফিরিয়ে আনার পর ওই চক্রটি তরুণীর সম্মতি ছাড়াই রাজস্থানের এক যুবকের কাছে তাঁকে দ্বিতীয়বার বিক্রি করে দেয় এবং বিয়ে করতে বাধ্য করে। অসহায় তরুণী লোকলজ্জার ভয়ে মুখ বুজে সেই দ্বিতীয় স্বামীর সাথেই প্রায় দশ মাস সংসার করেন এবং এই সময়কালে তিনি গর্ভবতীও হয়ে পড়েন।
কিন্তু ওই পাচারকারী চক্রের লোভের কোনো শেষ ছিল না। তরুণীকে আবারও অন্য কোথাও বিক্রি করার উদ্দেশ্যে তারা দ্বিতীয় স্বামীকে উস্কানি দিতে শুরু করে। তারা বরের পরিবারকে জানায় যে, তরুণীর প্রথম বিয়ে এবং আইনত আদালতের মামলা এখনও মেটেনি। এই কথা শুনে দ্বিতীয় স্বামী ও তার বাড়ির লোক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ওই গর্ভবতী তরুণীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত (Abortion) করিয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয় বিয়ের ছক বানচাল, এসএসপি-র দরবারে যুবতী
সব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় তরুণী যখন আবার সেই গ্রামের দালালদের কাছে আশ্রয় ভিক্ষা করতে আসেন, তখন তারা সহানুভূতি দেখানো তো দূর অস্ত, উল্টে তাঁকে তৃতীয় কোনো রাজ্যে চড়া দামে বিক্রি করে তৃতীয়বার বিয়ে দেওয়ার গোপন ষড়যন্ত্র শুরু করে।
ইতিমধ্যেই এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য এবং নিজের ওপর ঘটা প্রতি মুহূর্তের জালিয়াতি ধরে ফেলেন ভুক্তভোগী। তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রতিবার বিয়ের নামে এই তিন দালাল মোটা অঙ্কের টাকা পকেটে পুরছে। ফলে আর দেরি না করে, সুযোগ বুঝেই দালালদের ডেরা থেকে জান বাজি রেখে পালিয়ে কোনোমতে নিজের গ্রামে পৌঁছাতে সক্ষম হন তিনি।
গ্রামের বাড়ি ফিরেই সোজা গোরখপুরের এসএসপি (SSP)-র দপ্তরে গিয়ে হাজির হন নির্যাতিতা এবং নিজের ওপর ঘটে যাওয়া সমস্ত পৈশাচিক অত্যাচারের বিবরণ দিয়ে ন্যায়বিচারের আর্জি জানান। ঘটনার গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে এসএসপি-র কড়া নির্দেশে চৌরি চৌরা থানার পুলিশ গ্রামের ওই তিন মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানব পাচার, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও নির্মমভাবে শোষণের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।