ভারত পেল এস-৪০০ ‘সুদর্শন’, আকাশপথের নিরাপত্তায় এবার আরও দুর্ভেদ্য ভারতীয় বাহিনী

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলো। রাশিয়া থেকে আসা অত্যাধুনিক এস-৪০০ ‘সুদর্শন’ বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রনটি সফলভাবে ভারতে এসে পৌঁছেছে। এই নতুন সংযোজন দেশের আকাশসীমাকে যেকোনো বাইরের হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পশ্চিম সীমান্তে কড়া নজরদারি
প্রতিরক্ষা সূত্র মারফত খবর, এই নতুন স্কোয়াড্রনটি মূলত দেশের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হবে। এর লক্ষ্য হলো, আকাশপথে যেকোনো ধরণের অসংগত কার্যকলাপ বা অনুপ্রবেশের তাৎক্ষণিক ও কড়া জবাব দেওয়া।

অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি
এস-৪০০-এর এই নতুন সংস্করণে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত-সহায়ক সক্ষমতা। এই প্রযুক্তির ফলে:

আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি অনেক দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কোন লক্ষ্যবস্তুকে আগে ধ্বংস করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে অপারেটরদের সাহায্য করবে এআই।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিন্তু সম্পূর্ণভাবে মানুষের হাতেই থাকবে।

এই সিস্টেম ৬০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যেকোনো শত্রুঘাঁটি বা যুদ্ধবিমানকে চিহ্নিত করতে পারে।

কেন সরবরাহে দেরি হয়েছিল?
ভারত ২০১৮ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা) মূল্যে ৫টি স্কোয়াড্রন কেনার চুক্তি করেছিল। ইতিমধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন পাঞ্জাব, রাজস্থান ও সিকিম সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল। আপাতত সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, বছরের শেষ নাগাদ পঞ্চম ও চূড়ান্ত স্কোয়াড্রনটিও ভারতের হাতে আসবে।

বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা বলয়
ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল অনুযায়ী, এস-৪০০-কে আকাশ ও এমআরএসএএম-এর (MRSAM) মতো মাঝারি ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় আকাশে তৈরি হবে এক ‘ত্রিভুজ’ প্রতিরক্ষা ঢাল, যা ভেদ করা যে কোনো শত্রু দেশের জন্য অসম্ভব হবে।