দিল্লির রাজনীতিতে কি কোণঠাসা অভিষেক? তৃণমূলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে বড় মোড়

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী ফলাফল এবং দলীয় বিপর্যয়ের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। একদিকে দলীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা।

অভিষেক ও সংসদীয় দলের অস্থিরতা:
সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্দরে ‘পুরনো নেতৃত্ব’ বনাম ‘নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব’—এই দ্বিধাবিভক্তি এখন প্রায় স্পষ্ট। লোকসভায় দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেক সাংসদই এখন দলীয় বৈঠক বা সমন্বয় প্রক্রিয়ায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন না বলে খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অনাস্থা প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে, যদিও দলগতভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

মমতার কর্মসূচিতে সাংসদদের বড় অনুপস্থিতি:
গত কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এক কর্মসূচিতে দলের সাংসদদের অভাবনীয় অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ঐ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে মাত্র কয়েকজন সাংসদকে দেখা গেছে। অভিষেকের উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ সাংসদদের অনুপস্থিতি দলীয় শৃঙ্খলার সংকটকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণ:
রাজ্যের পাশাপাশি এই পরিস্থিতির আঁচ এখন দিল্লির সংসদীয় রাজনীতির অলিগলিতেও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভায় তৃণমূলের অবস্থান দুর্বল হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের ওপর। এই সংকট মোকাবিলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ:
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় স্তরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূলের এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ডিলিমিটেশন বিল’ বা সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো দ্রুত পেশ করার তোড়জোড় চালাচ্ছে কেন্দ্র। এই বিলগুলো কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র এবং তৃণমূলের সংসদীয় শক্তিতে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।