‘পাপিয়ার লোক’ পরিচয় দিয়ে মারধর! টেকনিশিয়ানদের বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্র টালিগঞ্জ

টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের ছক ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। ২৬টি পৃথক গিল্ড ভেঙে সেগুলিকে মাত্র চারটি গিল্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছেন টালিগঞ্জের বিধায়ক তথা ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কালচারাল কনফেডারেশন’ (EIMPCC)-এর প্রেসিডেন্ট পাপিয়া অধিকারী। আর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বর।
কী চাইছে ইআইএমপিসিসি (EIMPCC)?
পাপিয়া অধিকারীর দাবি, অগণিত গিল্ডের কারণে কাজের জটিলতা এবং দুর্নীতি বাড়ছে। তাই সব কলাকুশলীকে এক ছাতার তলায় আনতে এই কনফেডারেশন গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যামেরা, ডিরেক্টর এবং প্রোডাকশন কন্ট্রোলার—এই চারটি বিভাগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম বিভাগ যুক্ত করার আর্জি নিয়েও চলছে ভাবনাচিন্তা। তবে বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, দুর্নীতি বা কাটমানির সঙ্গে যুক্তদের ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো জায়গা নেই।
বিক্ষোভে উত্তাল স্টুডিও পাড়া
বিধায়কের এই একতরফা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কলাকুশলীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো আলোচনা ছাড়াই গিল্ড ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওর সামনে প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় দেড় থেকে দু’হাজার কলাকুশলী। সেখানে বাধা পেয়ে তাঁরা এলাকা সংলগ্ন ভরাট মাঠে প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করেন।
অভিযোগ, তখনই একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁদের ওপর চড়াও হয়। কলাকুশলীদের দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাঁদের মারধর করে, ইট ও ডিম ছুড়তে থাকে। তাঁদের দাবি, ওই হামলাকারীরা নিজেদের ‘পাপিয়া অধিকারীর লোক’ বলে পরিচয় দেয়। ঘটনায় আহত হয়ে একজন হেয়ার ড্রেসারকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, “আমরা বিধায়কের সঙ্গে কথা বলে অভাব-অভিযোগ জানাতে চাই। কিন্তু কথা বলার আগেই আমাদের ওপর আক্রমণ করা হলো।”
পাল্টা সাফাই পাপিয়া অধিকারীর
পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বলেন, “আমার নাম খারাপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এই হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না।” তাঁর মতে, ২৬টি গিল্ড থাকার যৌক্তিকতা নেই। ফেডারেশনের বদলে কনফেডারেশন তৈরি করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মেক-আপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু থেকে শুরু করে অন্যান্য কলাকুশলীদের প্রশ্ন, এতদিনের পুরনো গিল্ডগুলির গুরুত্ব উপেক্ষা করে কীভাবে রাতারাতি এহেন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব? সব মিলিয়ে শিল্পীদের এই বিক্ষোভ ও পাল্টা হামলার ঘটনায় টালিগঞ্জের অন্দরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এখন চরমে।