যে কোনও মুহূর্তে অভিষেক গ্রেফতার হবেন? দিলীপ ঘোষের হুঙ্কারে জল্পনা তুঙ্গে!

দল ভাঙনের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি খাঁড়া আরও প্রবল হলো। বুধবার বিকেলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর চার সদস্যের একটি দল। তাঁকে আগামী ১৫ জুন ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

দিলীপ ঘোষের হুঙ্কার:
বৃহস্পতিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনের হাত থেকে বাঁচতে নানা চেষ্টা করছেন, কিন্তু তা আর সম্ভব হবে না।” অতীত টেনে এনে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “অনুব্রত মণ্ডল বা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও এরকমই অসুস্থতার নাটক করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের জেলেই যেতে হয়েছে। সবার জন্যই একই ব্যবস্থা হচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য গ্রেফতারি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

আইনি জালে অভিষেক:
অভিষেকের বিরুদ্ধে এখন একাধিক আইনি লড়াই চলছে:

ED তলব: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে ১৫ জুন হাজিরার নির্দেশ।

CID সমন: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার সই জাল সংক্রান্ত মামলায় ৮ জুন তলব করা হয়েছে তাঁকে। সোমবার ১২টায় হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি যাননি।

পুরসভার নোটিশ: কালীঘাট ও ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসসহ তাঁর বাসভবনের কিছু অংশ বেআইনি বলে কলকাতা পুরসভা নোটিশ পাঠায়। যদিও হাইকোর্ট থেকে আপাতত ৩ সপ্তাহের স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এবং সেই সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে দলের অন্দরে বিদ্রোহী বিধায়কদের চাপে কোণঠাসা অভিষেক, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সমন—সব মিলিয়ে অভিষেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমানে ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিজেপি এই সুযোগে আইনি চাপে তৃণমূলের এই দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলতে চাইছে। এখন দেখার, ১৫ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দেন কি না, নাকি ফের অসুস্থতার দোহাই দিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখেন।