ইরানের পারমাণবিক স্বপ্নে ইন্ধন? ২৫০ টন মার্কিন হার্ডওয়্যার পাচার করে গ্রেপ্তার টেক-ব্যবসায়ী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল গুপ্তচরবৃত্তির বিতর্ক। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করতে গোপনে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৩ বছর বয়সী প্রযুক্তি ব্যবসায়ী জামশিদ ঘোমিকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসেলের মতে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
কীভাবে চলত পাচার চক্র?
ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, জামশিদ গত এক দশক ধরে এক সুপরিকল্পিত জাল বিছিয়েছিলেন:
ক্রয় ও পাচার: জামশিদ প্রথমে ইবে (eBay) ও পেপ্যাল (PayPal)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমেরিকান হার্ডওয়্যার কিনতেন। এরপর সেগুলোকে কয়েকদিন নিজের কোম্পানিতে ব্যবহারের ভান করে গোপনে পাঠিয়ে দিতেন তেহরানে। গত ১০ বছরে প্রায় ২৫০ টনেরও বেশি হার্ডওয়্যার তিনি ইরানে পৌঁছে দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
আর্থিক জালিয়াতি: কোম্পানিটি বছরে ১ কোটি ডলার আয় করলেও নথিপত্রে মাত্র ২০ হাজার ডলার রাজস্ব দেখানো হতো। আইআরএস (IRS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইরান থেকে ৭০ লক্ষ ডলার গ্রহণ করেছিলেন তিনি।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রস্তুতি: এই বিপুল জালিয়াতির দায়ে ফেডরাল প্রসিকিউটররা বর্তমানে তাঁর যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং তাঁকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া কি এখন গুপ্তচরদের নিরাপদ আশ্রয়?
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই শহর থেকে গত কয়েক মাসে গ্রেপ্তার হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে:
মে মাসে: শহরের প্রাক্তন মেয়র এলিন ওয়াংকে চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
এপ্রিলে: ৪৪ বছর বয়সী শামিম মাফিকে ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেস বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে: প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওস্তোয়ারিকে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কেন্দ্রস্থল হওয়ার কারণে ক্যালিফোর্নিয়া এখন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। জামশিদ ঘোমির এই গ্রেপ্তার আবারও প্রমাণ করল যে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর কতটা গভীর নজর রয়েছে বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কগুলোর।