স্ক্যান করলেই নম্বর! চিনের স্কুলগুলোতে এআই-এর ম্যাজিকে খাতা দেখা, সিবিএসই-র কপালে ভাঁজ

দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য সিবিএসই (CBSE) যে অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) পদ্ধতি চালু করেছে, তা নিয়ে বর্তমানে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ। উত্তরপত্র ঝাপসা স্ক্যান হওয়া থেকে শুরু করে ভুল নম্বর পাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অথচ, ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের অপর প্রান্তে চিনের স্কুলগুলিতে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহারে খাতা দেখার কাজটি হয়ে উঠছে জলভাত।
চিনে কীভাবে কাজ করছে এআই?
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখিয়েছে চিনের স্কুলগুলোতে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ (Homework) পরীক্ষা করা হচ্ছে। @ThusSpokeDharma নামের এক ব্যবহারকারী টুইটারে ভিডিওটি শেয়ার করার পর থেকেই শুরু হয়েছে শোরগোল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এআই সিস্টেম মুহূর্তের মধ্যে হাতের লেখা অ্যাসাইনমেন্ট স্ক্যান করছে, মূল্যায়ন করছে, গ্রেড দিচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীর কোথায় ভুল হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত মতামত (Feedback) প্রিন্ট করে দিচ্ছে।
চিনের প্রযুক্তির ক্ষমতা:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং-সহ চিনের অন্তত ১১০টিরও বেশি স্কুল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আইফ্লাইটেক (iFlytek) দ্বারা নির্মিত ‘স্পার্ক এআই গ্রেডার পি৩০’ (SPARK AI Grader P30) নামক এই ডিভাইসটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২৬ পৃষ্ঠা খাতা প্রসেস করতে সক্ষম। চিনা শিক্ষকদের কাজের চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে এই প্রযুক্তি, ফলে তারা পরীক্ষার খাতা দেখার পরিবর্তে পাঠদানের গুণগত মান বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন।
সিবিএসই-র ব্যর্থতা ও এআই-এর সীমাবদ্ধতা:
অন্যদিকে, সিবিএসই-র ওএসএম পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকেই অব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল পরিকল্পনার কারণে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। খাতা সঠিক না হওয়া বা অস্পষ্ট স্ক্যান কপির মতো প্রশাসনিক ত্রুটিগুলো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই প্রযুক্তি অঙ্ক বা তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক উত্তর যাচাই করতে পারলেও, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল লেখা বা রচনার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই অপরিহার্য। সেই অংশটুকু শিক্ষকদেরই হাতে রাখা উচিত।
শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির গুরুত্ব:
চিনের এই মডেল প্রমাণ করছে যে, সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কেবল শিক্ষকদের কাজের চাপই কমে না, শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও আরও দ্রুত এবং নির্ভুল হয়। ভারতের মতো বৃহৎ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক ত্রুটি কমাতে এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এখন দেখার বিষয়, সিবিএসই কর্তৃপক্ষ এই প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে কোনো আধুনিক পদক্ষেপ নেয় কি না।