বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে তোলপাড়! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নোটিশ নিয়ে হাইকোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তি এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অফিসে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল। বাড়ির বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি স্মিতা দাস দে পুরনিগমকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে কী নির্দেশ দিলেন বিচারপতি?
বিচারপতি স্মিতা দাস দে বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাড়ির ঠিক কোথায় বিচ্যুতি রয়েছে, কোন অংশটি অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কী কারণে আপত্তি উঠেছে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে কলকাতা পুরনিগমকে।

বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী:

পুরনিগমকে সেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর, সম্পত্তির মালিককে তা খতিয়ে দেখে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চার সপ্তাহ পর।

বিচারপতি পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, আদালত এই আইনি প্রক্রিয়ার মাঝে পুরনিগমের কাজ আটকে রাখছে না। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ পুরনিগম চালিয়ে যেতে পারবে।

পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অভিষেকের অবস্থান:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের দাবি, তাঁদের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত। পুরসভার পক্ষ থেকে যে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল, তাতে নির্দিষ্ট করে কোথাও বলা হয়নি কোথায় বেআইনি নির্মাণ রয়েছে বা তার কোনো উপযুক্ত প্রমাণপত্র (অ্যাটাচমেন্ট) দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে জানিয়েছিলেন, পুরসভার নোটিশের প্রেক্ষিতে তিনি লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুরনিগমের ৪০১ ধারায় পাঠানো নোটিশে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসকে বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। অনুমোদিত নকশার বাইরে কোনো নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

এখন পুরনিগম যে রিপোর্ট সাত দিনের মধ্যে আদালতে পেশ করবে, তাতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে।