টেনিস ছাড়ার কথা ভাবছেন বিশ্বসেরা! সাবালেঙ্কার এমন শোচনীয় হার আগে কখনও দেখেনি ফরাসি ওপেন

রোলাঁ গারোঁর কোর্টে যেন এক রূপকথা হতে হতেও ভেঙে চুরমার! ফরাসি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ডায়ানা শ্নাইডারের বিরুদ্ধে জয় যখন হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই সাবালেঙ্কার পারফরম্যান্সে দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য ধস। ম্যাচ শেষে বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা সাবালেঙ্কা হতাশায় ডুবিয়ে দিলেন নিজের ভক্তদের। বললেন, “এই মুহূর্তে আমি টেনিস ছেড়ে দিতে চাই।”

কী ঘটেছিল ম্যাচে?
স্কোরবোর্ড বলছে— ৬-৩, ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সাবালেঙ্কা। ম্যাচ জিততে প্রয়োজন ছিল মাত্র দুটি পয়েন্ট। কিন্তু এরপরই সব হিসেব ওলটপালট। টানা ১০টি গেম হাতছাড়া করে প্রতিপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন সাবালেঙ্কা। শেষ সেটে ৬-০ ফলে কার্যত উড়ে গেলেন তিনি। ম্যাচে ৫৭টি আনফোর্সড এরর (Unforced error) এক চূড়ান্ত হতাশাজনক চিত্রের প্রতিফলন মাত্র।

মানসিক অন্ধকার আর ‘ভাঙচুরের ঘর’
ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে সাবালেঙ্কা কোনো অজুহাত দেননি। সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি, “মানসিকভাবে আমি খুব গভীর এক অন্ধকার গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বেরোনোর পথ খুঁজে পাইনি।” এই হার কতটা পীড়া দিয়েছে তাকে, তা বোঝা গেল তার রসিকতার সুরেই। তিনি বললেন, “আমি ঠিক করেছি এমন একটা জায়গায় যাব যেখানে সবকিছু ভাঙা যায়। হয়তো সারাদিন জিনিসপত্র ভেঙে নিজেকে হাল্কা করার চেষ্টা করব।”

অতীতের ভূত আর সাবালেঙ্কার লড়াই
কেরিয়ারে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেও তার সবকটিই হার্ড কোর্টে। ক্লে কোর্টে সাফল্যের প্রত্যাশা এবার ছিল তুঙ্গে। কিন্তু গত বছর কোকো গফের কাছে হারের স্মৃতি যেন পিছু ছাড়ছে না। সাবালেঙ্কা নিজেও মানছেন, ক্লে বা ঘাসের কোর্টে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার জেদ তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “এত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া এবং বারবার এমনভাবে হারতে থাকাটা সত্যিই ক্লান্তিকর।”

ভবিষ্যৎ কী?
ইগা শিয়নটেকের মতো বড় নাম আগেই ছিটকে যাওয়ায় খেতাব জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল সাবালেঙ্কার সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। আপাতত বিরতি নিতে চাইছেন তিনি। এখন দেখার, এই ‘অন্ধকার গর্ত’ থেকে বেরিয়ে তিনি কবে কোর্টে ফিরে আসেন এবং নিজেকে মানসিকভাবে গুছিয়ে নিতে পারেন কি না।