তেলের দামে আগুন, শেয়ার বাজারে আতঙ্ক! বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

সপ্তাহের শেষলগ্নে এসে ফের বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ এবং তেলের চড়া দামের প্রভাবে বৃহস্পতিবারের সকাল থেকেই বাজার কার্যত ধুঁকছে। সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকেই এদিন ছিল প্রবল নিম্নমুখী প্রবণতা।
বাজারের বর্তমান চিত্র:
বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ৪০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে যায়। সূচকটি নেমে আসে ৭৩,৯০০-এর কাছাকাছি। পিছিয়ে ছিল না নিফটি ৫০-ও, সূচকটি ২৩,৩০০-এর নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শুধু লার্জ-ক্যাপ নয়, মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ সূচকেও এদিন ছিল ব্যাপক দুর্বলতা।
কেন এই পতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের পতনের পিছনে তিনটি বড় কারণ কাজ করছে:
তেলের দাম: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। যেহেতু ভারত প্রচুর তেল আমদানি করে, তাই এই দাম বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) লাগাতার শেয়ার বিক্রি করছেন, যা বাজারের ভিত্তিকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে।
অনিশ্চয়তা: বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।
বাজারের ভরসা কী?
খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ব্যাংকিং এবং স্বাস্থ্যসেবা (Healthcare) খাত। এই খাতের বাছাই করা কিছু শেয়ারে কেনাকাটা বাজারের বড় ক্ষতি আটকাতে সাহায্য করেছে। আইটি খাতের শেয়ারগুলো অবশ্য এদিনও চাপের মুখেই ছিল।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ:
বাজারের এই অস্থিরতায় আতঙ্কিত হয়ে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে, মৌলিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর ওপর নজর রাখাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।
বাজারের সারসংক্ষেপ (বৃহস্পতিবার):
সেনসেক্স: ৭৩,৯০০–৭৪,০০০ (দুর্বল)
নিফটি ৫০: ২৩,৩০০-এর নিচে (দুর্বল)
উদ্বেগের কারণ: ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ ও অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম।
ইতিবাচক: ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের লড়াই।