তৃণমূল ভাঙতেই কংগ্রেসে অন্তর্দ্বন্দ্ব! ‘দাগী’ নেতাদের যোগদান ঘিরে রাজীব ভবনে ধুন্ধুমার

রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে এবার আসরে নেমেছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের নির্দেশে ঘাসফুল শিবিরের নেতাকর্মীদের দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, প্রথম দিনেই তা ঘিরে তৈরি হলো প্রবল বিতর্ক। তৃণমূল নেতাদের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হলো যুব ও মাদার নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব।

যোগদান ঘিরে রাজীব ভবনে অশান্তি
বুধবার বিকেলে জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের কার্যালয় ‘রাজীব ভবনে’ আয়োজিত হয়েছিল যোগদান সভা। ঘাসফুল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান এবং মলয় রায়। কিন্তু এই যোগদান মেনে নিতে নারাজ জেলা যুব কংগ্রেস। খবর পাওয়া মাত্রই দলবল নিয়ে জেলা কার্যালয়ে হাজির হন যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নব্যেন্দু মৌলিক। তিনি প্রকাশ্যে এই যোগদানের বিরোধিতা করে কার্যত রণমূর্তি ধারণ করেন।

কেন এই প্রতিবাদ?
নব্যেন্দু মৌলিকের অভিযোগ, “দাগী তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়ার বিষয়ে যুব কংগ্রেস বা ছাত্র পরিষদকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এই নিয়ে কোনো বৈঠকেই লিখিত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই এই যোগদান সম্পূর্ণ অবৈধ।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এভাবে দাগী নেতাদের দলে নেওয়া কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না যুব কংগ্রেস। প্রয়োজনে আগামী দিনে তাঁরা ‘একলা চলার’ পথে হাঁটবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পাল্টা সাফাই জেলা নেতৃত্বের
যুব কংগ্রেসের এই বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস সভাপতি অমিত ভট্টাচার্য্য অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, “যা করা হয়েছে তা প্রদেশ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই করা হয়েছে। যুব কংগ্রেসের নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোণঠাসা হওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভাঙন ধরার আবহে কংগ্রেস এই ‘ঘর ওয়াপসি’ বা দল বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই জেলা স্তরে এই গোষ্ঠী কোন্দল কংগ্রেসের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল নেতাদের কংগ্রেসে যোগদানের এই জোয়ার আদৌ ‘হাত’ শিবিরের শক্তি বাড়াবে, না কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দল আরও দুর্বল হবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।