৩,০০০ কোটির ম্যাজিক! চড়া পারিশ্রমিক ছেড়ে কীভাবে ‘জ্যাকপট’ পেলেন রণবীর?

ভারতীয় বক্স অফিসে ৩,০০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক রুদ্ধশ্বাস ব্যবসায়িক কৌশল ও ঝুঁকি নেওয়ার গল্প। ছবির সহ-প্রযোজক প্রধান জ্যোতি দেশপাণ্ডে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফাঁস করেছেন সেই পর্দার আড়ালের কাহিনী।

পারিশ্রমিক কাটছাঁট, লক্ষ্য লাভের অংশ
বলিউডের সুপারস্টার রণবীর সিং ও পরিচালক আদিত্য ধর এই ছবির জন্য শুরুতে কোনো চড়া পারিশ্রমিক দাবি করেননি। জ্যোতি দেশপাণ্ডে জানান, ছবির শুটিং চলাকালীন জাঁকজমক ও বিশাল স্কেলের কারণে বাজেট প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। সেই আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটাতে এগিয়ে আসেন রণবীর ও আদিত্য। তাঁরা মোটা অঙ্কের অগ্রিম পারিশ্রমিক না নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে ‘ব্যাক-এন্ড প্রফিট শেয়ারিং’ বা লভ্যাংশ ভাগাভাগির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

একটি গল্প থেকে দুই পর্বের ম্যাজিক
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ‘ধুরন্ধর’ আদতে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বা দুই পর্বের সিনেমা হিসেবে লেখা হয়নি। এটি ছিল একটি একক ছবি। কিন্তু শুটিং শুরুর পর ফুটেজের মান ও গল্পের গতি এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে, টিম বুঝতে পারে এই গল্পকে দু’ভাগে ভাগ করলে বড়সড় বাজি জেতা সম্ভব। সেই ঝুঁকিই আজ ‘ধুরন্ধর’ ও ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-কে বিশ্বজুড়ে ৩,০০০ কোটির ক্লাবে পৌঁছে দিয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে ‘জ্যাকপট’
বক্স অফিস রিপোর্ট বলছে, প্রথম পর্ব ১,৩০৭ কোটি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১,৭৯০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে। জ্যোতি দেশপাণ্ডের মতে, পারিশ্রমিক ছেড়ে লাভের অংশ নেওয়ার কৌশলটিই ছিল রণবীর ও আদিত্যর সবচেয়ে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এর ফলে ছবির আর্থিক ঝুঁকি যেমন ভাগ হয়ে গিয়েছিল, তেমনই সাফল্যের পর লাভের বড় অঙ্কের টাকাও নিশ্চিত হয়েছে তাঁদের জন্য।

ওটিটিতে আসছে ‘ধুরন্ধর ২’
থিয়েটারে সাফল্যের পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও রাজত্ব করতে আসছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ছবিটি শীঘ্রই জিও-হটস্টারে স্ট্রিমিং শুরু হবে। তবে চমকের শেষ এখানেই নয়, প্রযোজকের ইঙ্গিত অনুযায়ী এই বছরের শেষের দিকে দর্শকদের জন্য আরও বড় কোনো সুখবর অপেক্ষা করছে।