টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন আরসিবি! ট্রফি জয়ের রাতে কেন সেলিব্রেশন থেকে বিরত বিরাটরা?

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘If it’s nice, do it twice’। অর্থাৎ, কোনো কিছু ভালো লাগলে তা দ্বিতীয়বার করা উচিত। আইপিএলে ঠিক এই কাজটাই করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। ২০২৫-এর পর ২০২৬ সালেও গুজরাট টাইটানসকে একপেশে লড়াইয়ে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ট্রফি ঘরে তুলল বিরাট কোহলির দল। স্বাভাবিকভাবেই এই জয়ে বেঙ্গালুরুসহ গোটা দেশে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ট্রফি জয়ের আনন্দ উৎসবের মাঝেও এবার আরসিবি ম্যানেজমেন্টের অবস্থান বেশ ব্যতিক্রমী।
গত বছরের তিক্ত স্মৃতি:
গত বছর আরসিবির ট্রফি জয়ের পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশাল বিজয় উৎসব। কিন্তু মাঠের বাইরে সমর্থকদের বাঁধনহারা ভিড় সামলাতে গিয়ে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ হয়েছিল। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও হুড়োহুড়িতে ১১ জন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে আরসিবির হোম গ্রাউন্ডের মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ বছর দীর্ঘ আলোচনা ও বোর্ডের মধ্যস্থতায় আরসিবি তাদের মাঠে ম্যাচ খেলার অনুমতি পেলেও, অতীতের সেই কালো দিনটির স্মৃতি ভোলেনি ম্যানেজমেন্ট।
আরসিবির সাহসী ও দায়িত্বশীল বার্তা:
এ বছর ট্রফি জয়ের পরেই আরসিবির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিয়ে বলা হয়, “কী দুর্দান্ত এক রাত! এই জয় আপনাদের সকলের। কিন্তু এবার উদযাপন হবে অন্যরকম। বাড়িতে থাকুন, দলের সাফল্য সুস্থভাবে উদযাপন করুন। আগামী বছর আবার দেখা হবে।” এই বার্তার মাধ্যমে আরসিবি কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আর কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। গতবারের সেই অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবারের উৎসব থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা:
যদিও আরসিবি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সেলিব্রেশনের ডাক দেয়নি, তবুও সমর্থকরা নিজেদের আবেগকে আটকে রাখতে পারেননি। বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় বেরিয়ে জয় উদযাপন করেছেন তাঁরা। তবে কর্নাটক পুলিশ এবার পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রেখেছিল। কিছু জায়গায় ভিড় সামলাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ট্রফি জয়ের আনন্দ আর সমর্থকদের নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রেখে আরসিবির এই ‘নিশানা’ বদলানো উৎসব এখন ক্রিকেট মহলে নতুন চর্চার বিষয়। মাঠের বাইরের এই দায়িত্বশীল আচরণ বুঝিয়ে দিল, সমর্থকদের ভালোবাসার মর্যাদা শুধু ট্রফি জিতে নয়, তাঁদের সুস্থতা নিশ্চিত করেও দেওয়া যায়।