“মহিলাদের জন্য ‘ফ্রি বাস’ পরিষেবা”-সত্যিই সুবিধা পাচ্ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দারা?

রাজ্যজুড়ে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাত্রা পরিষেবা চালু হতেই উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। তবে এই আনন্দের মাঝেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের গলায় শোনা যাচ্ছে আক্ষেপের সুর। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি বাসের সংখ্যাই যেখানে নগণ্য, সেখানে এই প্রকল্পের সুফল ঘরে তুলবেন কীভাবে?

পরিষেবার অভাব কোথায়? ক্যানিং, সোনারপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বজবজ ও সাতগাছিয়ার মতো এলাকাগুলোতে সরকারি বাসের দেখা মেলা দায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় বারুইপুর থেকে হাওড়া বা করুণাময়ী পর্যন্ত যে বাস পরিষেবা চালু ছিল, তার অধিকাংশই আজ বন্ধ। ফলে বাধ্য হয়েই মহিলা যাত্রীদের বেসরকারি বাস বা অটোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বারুইপুর থেকে কলকাতা যাতায়াতকারী এক মহিলা যাত্রীর কথায়, ‘‘বিনামূল্যের ঘোষণা ভালো, কিন্তু বাসই যদি না থাকে তবে সেই সুবিধা নেব কীভাবে? সন্ধ্যা নামলেই সরকারি বাসের বদলে অটোই ভরসা, যেখানে অনেক বেশি ভাড়া গুণতে হয়।’’ একইভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় সরকারি বাস পরিষেবার শোচনীয় অবস্থার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলার সব প্রান্তে ছবিটা কি এক? জেলার সব জায়গায় কিন্তু চিত্রটা এতটা হতাশাজনক নয়। কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, বকখালি ও পাথরপ্রতিমা রুটে সরকারি বাস পরিষেবা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ভালো। কন্ডাক্টর আশিস বারুই জানান, ধর্মতলা থেকে কাকদ্বীপগামী একটি সরকারি বাসে সোমবারই মহিলা যাত্রীদের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট ১০২ জন যাত্রীর মধ্যে ৫৫ জনই ছিলেন মহিলা। ফলে যেখানে বাস রয়েছে, সেখানে মহিলারা এই সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন।

আশা ও বাস্তবের ফারাক অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন নিয়মিত সরকারি বাস পরিষেবা বাড়ানো। কর্মজীবী মহিলারা জানিয়েছেন, যদি বারুইপুর বা সোনারপুরের মতো জনবহুল এলাকা থেকে কলকাতায় যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি বাসের ব্যবস্থা করা যায়, তবেই সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পাবে।

পরিষেবা চালু হওয়ার প্রথম দিনেই এই বৈষম্যমূলক চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এখন দেখার, পরিবহণ দপ্তর জেলার প্রতিটি প্রান্তে এই পরিষেবাকে পৌঁছে দিতে নতুন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।