পঞ্চকে মৃত্যু কি সত্যিই অশুভ? কী বলছে শাস্ত্র? জেনে নিন কুসংস্কারমুক্ত সত্যি ও প্রতিকারের নিয়ম

সনাতন ধর্মে মানুষের জীবনচক্রে ১৬টি সংস্কারের বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু ও তার পরবর্তী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। জ্যোতিষশাস্ত্র ও লোকবিশ্বাসে ‘পঞ্চক’ চলাকালীন মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ভয় ও কৌতূহল রয়েছে। অনেকে একে অত্যন্ত অশুভ বা কষ্টদায়ক বলে মনে করেন। কিন্তু শাস্ত্র ঠিক কী বলে?
পঞ্চক আসলে কী?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, যখন চাঁদ কুম্ভ ও মীন রাশিতে অবস্থান করে, সেই সময়কালকে পঞ্চক বলা হয়। ধনিষ্ঠা (উত্তরার্ধ), শতভিষা, পূর্বভাদ্রপদ, উত্তরভাদ্রপদ ও রেবতী—এই পাঁচটি নক্ষত্রের সমন্বয়ে তৈরি হয় ‘পঞ্চক’। ‘পঞ্চ’ বা পাঁচের সমষ্টি হওয়ার কারণেই এই সময়ে যে কোনো কাজের প্রভাব পাঁচগুণ বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়, তাই শুভ বা মাঙ্গলিক কাজ এই সময় এড়িয়ে চলাই দস্তুর।
মৃত্যু ও পঞ্চক: ভয়ের কারণ কী?
গরুড় পুরাণ ও বিভিন্ন শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পঞ্চক কালে মৃত্যু হলে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়:
পরিবারের উদ্বেগ: লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পঞ্চক কালে মৃত্যু হলে পরিবারে আরও পাঁচজন সদস্যের ওপর বিপদ বা অসুস্থতার আশঙ্কা থাকে।
আত্মার গতি: অনেকের মতে, পঞ্চক কালে আত্মা উচ্চলোকে গমনে বাধা পেতে পারে।
দাহকার্যের নিয়ম: শাস্ত্র মতে, পঞ্চক চলাকালীন কাঠ কাটা বা সংগ্রহের কাজ অশুভ। তাই এই সময় দাহকার্য করতে হলে বিশেষ শাস্ত্রীয় বিধি মেনে চলতে হয়।
২০২৬ সালে পঞ্চক-এর সময়সূচী:
২০২৬ সালে পঞ্চক-এর তারিখগুলো নিচে দেওয়া হলো:
জুন: ৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭:০৩ থেকে ১১ তারিখ সকাল ৮:১৬।
জুলাই (প্রথম): ৪ তারিখ দুপুর ১২:৪৮ থেকে ৮ তারিখ বিকেল ৪:০০।
জুলাই-আগস্ট (দ্বিতীয়): ৩১ জুলাই সকাল ৬:৩৮ থেকে ৪ আগস্ট রাত ৯:৫৪।
আগস্ট-সেপ্টেম্বর: ২৭ আগস্ট দুপুর ১:৩৫ থেকে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৩:২৩।
সেপ্টেম্বর: ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯:৫৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:১৬।
অক্টোবর: ২১ অক্টোবর সকাল ৭:০০ থেকে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭:২২।
নভেম্বর: ১৭ নভেম্বর দুপুর ৩:৩০ থেকে ২২ নভেম্বর সকাল ৫:৫৪।
ডিসেম্বর: ১৪ ডিসেম্বর রাত ১০:৩৫ থেকে ১৯ ডিসেম্বর দুপুর ৩:৫৮।
পঞ্চক দোষ কাটানোর উপায়:
শাস্ত্রমতে, যদি পঞ্চক কালে কারো মৃত্যু হয়, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় উপায়ে এই দোষ নিবারণ সম্ভব। দাহকার্যের সময় বিশেষ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই দোষের অশুভ প্রভাব কাটানো যায়। তবে এই ধরনের ধর্মীয় বা শাস্ত্রীয় কাজের ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ পুরোহিত বা শাস্ত্রজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি।