কলকাতা পুরসভায় বড় ধাক্কা! এবার পদত্যাগ করছেন মেয়র পারিষদ, বাড়ছে তৃণমূলের অস্বস্তি

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ এখন কলকাতা পুরসভার অন্দরেও। একের পর এক পদত্যাগ এবং দলের অন্দরে বিদ্রোহের জেরে কার্যত চাপে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জানা যাচ্ছে, এবার পদত্যাগ করতে চলেছেন কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পারিষদ।
পুরসভায় ইস্তফার হিড়িক:
গত কয়েক দিনে কলকাতা পুরসভায় একের পর এক পদত্যাগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রথমে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। এরপরই ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন সুশান্ত ঘোষ। একই দিনে মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির পদ ছাড়েন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। এই ধারাবাহিক পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, পুরসভার অন্দরে তৃণমূলের শক্তিতে বড়সড় ফাটল ধরেছে।
সই জালিয়াতি ঘিরে বিতর্ক:
পুরসভার এই অস্থিরতার পাশাপাশি বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ড নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার অভিযোগ, গত ১৯ মে বিধায়কদের দিয়ে যে সই করানো হয়েছিল, তাতে জালিয়াতি করে ৬ মে তারিখ বসানো হয়েছিল। তাঁদের দাবি, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের জন্য এই সই নেওয়া হয়নি, বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসার জন্য সই নেওয়া হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ও বিধায়কদের প্রতিক্রিয়া:
এই সই জালিয়াতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, অন্তত তিনজন বিধায়ক সিআইডির কাছে স্বীকার করেছেন যে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তবে উল্টো সুর শোনা গেছে বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তাঁরা তাঁদের সই জাল হওয়ার অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদের সম্ভাব্য পদত্যাগ তৃণমূলের জন্য এক নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল। দলের অন্দরের এই অব্যাহত ভাঙন আগামী দিনে পুরসভার প্রশাসনিক কাজে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।