ন্যাড়া মাথায় নেই হাজিরা! চুলের ‘টোটকা’য় রক্ষা পেলেন শ্রমিক, প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

প্রযুক্তি কতটা স্মার্ট, তা নিয়ে চর্চার শেষ নেই। কিন্তু সেই প্রযুক্তির ভুলে যে একজন শ্রমিকের দিনমজুরি হারানোর উপক্রম হবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেননি! সম্প্রতি তেলেঙ্গানার মহাবুবাবাদ জেলায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয়রা, যা নিয়ে নেটপাড়ায় হাসির রোল উঠেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
শ্রীনিবাস নামে এক শ্রমিক সম্প্রতি মানত পূরণ করতে নিজের মাথা মুণ্ডন করেন। বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দেওয়ার সময় বিপত্তি বাধে সরকারের চালু করা নতুন ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ বা মুখ শনাক্তকরণ অ্যাপ নিয়ে। অ্যাপটি কোনোভাবেই শ্রীনিবাসের ন্যাড়া মাথাকে শনাক্ত করতে পারছিল না। বারবার হাজিরা বাতিল হওয়ায় সেই দিনের মজুরি পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি।

সহকর্মীর অভিনব বুদ্ধি
পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন এক মহিলা সহকর্মী। তিনি নিজের মাথার লম্বা চুলগুলো আলতো করে শ্রীনিবাসের ন্যাড়া মাথার ওপর ছড়িয়ে ধরেন। অদ্ভুত হলেও সত্যি, ছদ্মবেশী চুলের আড়ালে শ্রীনিবাসের মুখ শনাক্ত করতে অ্যাপের আর কোনো অসুবিধা হয়নি। সুপারভাইজার আবার অ্যাপটি চালু করতেই সঙ্গে সঙ্গে হাজিরা নথিভুক্ত হয়ে যায়!

প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটি শুনতে হাস্যকর মনে হলেও, এটি সরকারি কাজে ব্যবহৃত ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সামান্য চুল ছাঁটা বা ন্যাড়া হওয়ার মতো বাহ্যিক পরিবর্তনের কারণে যদি একজন শ্রমিককে হাজিরা দিতে হিমশিম খেতে হয়, তবে গ্রামীণ স্তরে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ঠিক কতটা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি এখনও অনেকটা পথ বাকি। মানুষের শারীরিক পরিবর্তনকে সহজে চিনতে না পারার ফলে সাধারণ মানুষকে যে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। আপাতত, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চুলের ‘টোটকা’ বা বুদ্ধিটি দারুণ ভাইরাল হয়েছে। তবে প্রশাসনিক স্তরে এই ত্রুটি নিয়ে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে, নতুবা এই ধরনের ‘চুলচেরা’ সমস্যায় ভবিষ্যতে আরও অনেকের মজুরি আটকে যেতে পারে!