দুই দশকের ঠিকানায় ইতি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীকে সরকারি বাংলো ছাড়ার নির্দেশ

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেত্রী রাবড়ি দেবীকে পাটনার ১০ সার্কুলার রোডে অবস্থিত তাঁর দীর্ঘদিনের সরকারি বাসভবন খালি করার নির্দেশ দিল প্রশাসন। গত ২৯ মে এই সংক্রান্ত একটি সরকারি নোটিশ জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, ওই বাংলোটি বর্তমানে বিহার সরকারের পশু ও মৎস্য সম্পদ মন্ত্রী নন্দ কিশোর রামকে বরাদ্দ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুর বদল:
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ১০ সার্কুলার রোডের এই বাংলোটি ছিল আরজেডি-র অঘোষিত রাজনৈতিক সদর দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও রাজভবনের সন্নিকটে অবস্থিত এই বাসভবন থেকে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে, এই বাংলোটির সঙ্গে আরজেডি নেতা-কর্মী ও লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারের একটি আবেগঘন সংযোগ রয়েছে। এই নোটিশের ফলে দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পরবর্তী ঠিকানা ও সরকারি অবস্থান:
প্রশাসন সূত্রে খবর, বিহার বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে রাবড়ি দেবীকে ৩৯ হার্ডিং রোডের একটি নতুন সরকারি বাসভবন বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এটি একটি রুটিন প্রক্রিয়া। আবাসন বরাদ্দের নিয়ম মেনেই সকল জনপ্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট নিয়মাবলি পালন করতে হয়, যার ব্যতিক্রম করা সম্ভব নয়। বিধানসভার স্পিকার প্রেম কুমারও এই সুরেই জানিয়েছেন যে, নিয়ম সবার জন্যই সমান এবং জনপ্রতিনিধিদের তা মেনে চলাই উচিত।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আরজেডি মুখপাত্র শক্তি যাদব একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, “এই সিদ্ধান্ত সরকারের একগুঁয়েমি ও বিজেপির প্রভাবেরই প্রতিফলন।”
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও অনুরূপ একটি নোটিশ জারি করা হয়েছিল, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রাবড়ি দেবীর কন্যা রোহিনী আচার্য। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “লালুপ্রসাদ যাদবকে অপমান করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আপনারা তাঁকে বাড়ি থেকে সরাতে পারেন, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে সরাতে পারবেন না।”
উপসংহার:
রাবড়ি দেবীকে এই সরকারি বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। একদিকে নিয়ম রক্ষার যুক্তি, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিহারের রাজনীতিতে এখন এই বাংলো বিতর্কের পারদ তুঙ্গে।