মাত্র ২২ বছরেই আইপিএস! অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা কনস্টেবল-কন্যার অসাধ্য সাধনের গল্প

স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু তা অর্জনের পথে হাজারো বাধা ডিঙিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানোর নামই হলো অদম্য জেদ। হরিয়ানার রেওয়ারির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে প্রীতি যাদব প্রমাণ করে দিলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো স্বপ্নই আকাশকুসুম নয়। পুলিশ কনস্টেবলের মেয়ে থেকে আইপিএস অফিসার হয়ে ওঠার এই যাত্রা হাজারো পরীক্ষার্থীর জন্য এক পরম অনুপ্রেরণা।
কনস্টেবল বাবার লড়াই ও স্বপ্ন:
প্রীতির বাবা চন্দ্র মোহন যাদব চণ্ডীগড় পুলিশের একজন হেড কনস্টেবল। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়—এমন সংসারে বেড়ে উঠলেও প্রীতির বাবা-মায়ের একমাত্র সম্পদ ছিল শিক্ষা। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, একমাত্র শিক্ষিত হওয়ার মাধ্যমেই দারিদ্র্যের বৃত্ত ভাঙা সম্ভব। প্রীতিও সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছেন ছোটবেলা থেকেই। স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯৬.২% নম্বর পেয়ে মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।
ইউপিএসসির জন্য ত্যাগ:
ভূগোলের প্রতি অনুরাগ থেকে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে তাড়া করে বেড়াত। স্নাতক শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হলেও ইউপিএসসির প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখতে চাননি তিনি। প্রীতি বলেন, “লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি আমার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পড়া মাঝপথেই ছেড়ে দিই।” যে পরীক্ষা পাশের জন্য বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর সময় কাটিয়ে দেয়, সেই ইউপিএসসিতে প্রীতি বাজিমাত করেন প্রথম প্রচেষ্টাতেই! ২০১৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে ৬৩৬তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি নাম লেখান আইপিএসদের তালিকায়।
কর্মজীবন ও বর্তমান অবস্থা:
উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে প্রীতির কর্মজীবন শুরু হয় সাহারানপুরে এএসপি হিসেবে। বর্তমানে তিনি গৌতম বুদ্ধ নগরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (Addl. SP) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন-শৃঙ্খলারক্ষা এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় তিনি ইতিমধ্যে নিজের ছাপ রেখেছেন।
সফলতার মূল মন্ত্র:
প্রীতির মতে, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। ধারাবাহিকতা, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা—এই তিনটি বিষয়ই তাঁকে সফল করেছে। প্রীতির সাফল্যের গল্প আমাদের শেখায় যে, পারিপার্শ্বিক অবস্থা যাই হোক না কেন, স্বপ্ন দেখার সাহস এবং তা অর্জনের জেদ থাকলে সাফল্য আসবেই।