“বিমানযাত্রায় বড় ধাক্কা!”-দিনে ২৫০টি ঘরোয়া উড়ান বাতিলের পথে ইন্ডিগো-এয়ার ইন্ডিয়া

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং বিমান জ্বালানির (ATF) লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা। আগামী তিন মাস, অর্থাৎ জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত ঘরোয়া উড়ানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বৃহত্তম দুই বিমান সংস্থা—ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিদিন অন্তত ২৫০টি উড়ান বাতিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত? বিমান সংস্থাগুলির দাবি, প্রতি কিলোলিটার এটিএফ (ATF)-এর দাম ৭৫-৮০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১,০৯,৪৫০ টাকা (কলকাতায়) গিয়ে ঠেকেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভ্যাট (VAT)-এর বোঝা। পাশাপাশি, যাত্রী চাহিদাও আগের তুলনায় কিছুটা নিম্নমুখী। এই পরিস্থিতিতে যে রুটগুলিতে মুনাফা কম, আপাতত সেই রুটে বিমান সংখ্যা ছাঁটাইয়ের পথেই হাঁটছে সংস্থাগুলি।
উড়ান বাতিলের হিসেব:
-
এয়ার ইন্ডিয়া: বর্তমানে দিনে প্রায় ৫০০টি অভ্যন্তরীণ উড়ান চালায় এই সংস্থা। ২০-২২ শতাংশ উড়ান কমানোর সিদ্ধান্তে দিনে ১১০টি বিমান বাতিল হবে। পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও তাদের উড়ান সংখ্যা ১০ শতাংশ কমাবে।
-
ইন্ডিগো: বর্তমানে দিনে ২২০০টি উড়ান চালায় ইন্ডিগো। ৫-৭ শতাংশ উড়ান কমালে তাদেরও প্রায় ১১০টি উড়ান বাতিল হবে।
সব মিলিয়ে দুই সংস্থা মিলিয়ে দৈনিক প্রায় আড়াইশো উড়ান বাতিলের ফলে বড় শহরগুলির সংযোগকারী পরিষেবায় টান পড়বে।
বিপাকে কোন রুটের যাত্রীরা? বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর মতো মেট্রো শহরগুলির যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবেন। মুম্বই থেকে জয়পুর, গোয়া, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমেদাবাদ এবং নাগপুরের মতো রুটের উড়ানে প্রভাব পড়বে। দিল্লি-কলকাতা রুটেও উড়ানের সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কলকাতা থেকে অন্যান্য গন্তব্যের যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে কম বিপাকে পড়বেন বলে প্রাথমিক ধারণা।
যাত্রীদের জন্য বার্তা: বিমান সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও গন্তব্যে বিমান পরিষেবা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না, বরং উড়ানের সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে। তবুও গরমের ছুটির মরসুমে এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে ভ্রমণের টিকিট বুক করেছেন, তাঁদের নিজ নিজ সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে ফ্লাইটের স্ট্যাটাস নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।