দিল্লিতে বড় ধাক্কা ‘অ্যাবসলুট ভদকা’ প্রেমীদের! লাইসেন্স নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত দিল্লি হাইকোর্টের

দিল্লির মদ্যপায়ীদের জন্য এল মন খারাপ করা খবর। আপাতত রাজধানীতে ‘অ্যাবসলুট ভদকা’ বা ‘সিভাস রিগ্যাল’-এর মতো জনপ্রিয় পানীয় পাওয়ার আশা ছাড়তে হচ্ছে তাঁদের। আবগারি নীতি কেলেঙ্কারি ও কর ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত ফরাসি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘প্যার্নো রিকার্ড’-এর ব্যবসায়িক আবেদনের আর্জি খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

আদালতে বড় ধাক্কা সংস্থার
২০২১ সালের দিল্লির আবগারি নীতি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর পর থেকেই রাজধানীতে এই সংস্থার ব্যবসা প্রায় স্তিমিত। ২০২৩ সাল থেকে বাজারে দেখা মিলছে না তাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর। পুনরায় ব্যবসা করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এই বহুজাতিক সংস্থা, কিন্তু শুক্রবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

কী এই ‘স্কচ কেলেঙ্কারি’?
তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, আমদানিকৃত স্কচ হুইস্কির প্রকৃত গুণমান ও মিশ্রণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে বাজারে কম দাম দেখানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—দিল্লির চড়া ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ফাঁকি দেওয়া। অভিযোগ, বাল্ক বা পাইকারি স্কচ আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৬৭.৪৯ শতাংশ কম দাম দেখিয়েছিল সংস্থাটি। এরপর জল ও ক্যারামেল মিশিয়ে তৈরি করা হতো ‘রয়্যাল স্ট্যাগ’-এর মতো হুইস্কি।

জরিমানার অংক শুনলে চমকে উঠবেন
কর ফাঁকির অভিযোগে সংস্থার বিরুদ্ধে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার বকেয়া করের নোটিস পাঠিয়েছে সরকার। সূত্রের খবর, জরিমানাসহ এই দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫,৭২৫ কোটি টাকা। সংস্থাটির গত বছরের মোট ভারতীয় আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বার্ষিক লাভের প্রায় তিন গুণ এই জরিমানার অংক। অর্থাৎ, মামলাটি হারলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে প্যার্নো রিকার্ড।

সংস্থার সাফাই
সমস্ত অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছে প্যার্নো রিকার্ড ইন্ডিয়া। তাদের স্পষ্ট দাবি, “সংস্থা কোনো রকম বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। সমস্ত নিয়ম মেনেই ব্যবসা করা হয়েছে। আমরা আইনি পথেই এর মোকাবিলা করছি এবং নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে আত্মবিশ্বাসী।”

বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজধানী শহরে এই সংস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। তবে আইনি লড়াই যে দীর্ঘ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।