অবৈধ বহুতল ভাঙার তোড়জোড়! ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে কী জানাল হাইকোর্ট?

তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ নির্মাণ ভাঙার প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। বহুতলটি সিল করে দেওয়ায় আটকে পড়া নথি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাসিন্দারা। অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল আজ এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশ: হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে তদন্তকারী অফিসার, কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধি এবং আবেদনকারীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে।

আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, তদন্তের স্বার্থে যদি কোনো নথিপত্র বা জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া তদন্তকারী অফিসারের কাছে ‘সংবেদনশীল’ বলে মনে হয়, তবে সেক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট জিনিসগুলো নেওয়ার অনুমতি নাও দিতে পারেন তিনি। অর্থাৎ, তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথে কোনো আপস করা হবে না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ১২ মে তিলজলা থানা এলাকার তপসিয়ায় একটি বহুতলের দোতলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, ওই বহুতলটির কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না এবং সেখানে বেআইনিভাবে একটি চামড়ার কারখানা চলছিল। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন; বুলডোজার নামিয়ে ভেঙে ফেলা হয় ওই অবৈধ আবাসনের একাংশ।

আইনি লড়াই: বাড়ি ভাঙার এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর আগেই বাসিন্দারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত ১৫ মে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চ বাড়ি ভাঙার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২২ জুন ধার্য করা হয়েছে।

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার এই টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা এখন তাঁদের হারানো প্রয়োজনীয় নথি ফিরে পেতে আদালতের নির্দেশকেই একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখছেন।