পেট্রলের দিন শেষ? ৩ জুন আসছে হিরোর নতুন ইথানল বাইক, বদলে যাবে বাইকিংয়ের দুনিয়া!

ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল হিরো মোটোকর্প (Hero MotoCorp)। মারুতি সুজুকির পথ অনুসরণ করে এবার ফ্লেক্স ফুয়েল বা সম্পূর্ণ ইথানল চালিত বাইক বাজারে আনতে চলেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই টু-হুইলার নির্মাতা সংস্থা। আগামী ৩ জুন, ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাইকটি লঞ্চ করা হবে।

কেন এই উদ্যোগ?
পেট্রল ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মুখে ‘ইথানল ইকোনমি’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পেট্রল পাম্পগুলিতে এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

হিরোর বাইকের বিশেষত্ব:
বর্তমানে বাজারে থাকা সুজুকি জিক্সার এসএফ ২৫০ (Suzuki Gixxer SF 250) বা হোন্ডা সিবি ৩০০এফ (Honda CB 300F)-এর মতো মডেলগুলি সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে পারে। কিন্তু হিরোর নতুন বাইকটি হবে সম্পূর্ণ ‘ফ্লেক্স ফুয়েল’ প্রযুক্তিনির্ভর, যা পুরোপুরি ইথানলের সাহায্যেই চলবে। জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের ‘ভারত মোবিলিটি এক্সপো’-তে এই প্রযুক্তির একটি ঝলক দেখা গিয়েছিল হিরোর এইচএফ ডিলাক্স (HF Deluxe) মডেলের মাধ্যমে। জয়পুরের ‘সেন্টার ফর ইনোভেশন টেকনোলজি’-তে তৈরি এই বাইকটিতে ১০০ সিসির বিএস৬ (BS6) ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিবেশের জন্য কতটা উপকারী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল ব্যবহারের দুটি বড় সুবিধা রয়েছে:

গ্রিন হাউজ গ্যাস হ্রাস: ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে ক্ষতিকারক গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন অনেকাংশে কমে যায়।

অক্সিজেনের অধিক্য: ইথানলের মধ্যে অক্সিজেনের পরিমাণ পেট্রলের চেয়ে বেশি থাকে, ফলে ইঞ্জিনের দহন প্রক্রিয়া অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কম পড়ে।

ভবিষ্যতের পথ:
আমদানিকৃত তেলের ব্যবহার কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের এই লক্ষ্য পূরণ করতে হিরোর এই উদ্যোগ এক বড় মাইলফলক হতে পারে। ৩ জুন বাইকটি লঞ্চ হওয়ার পর এটি সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।