বসিরহাটে ৩৩৫ জন অনুপ্রবেশকারী আটক! কড়া ব্যবস্থার পথে সরকার, কী বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

নবান্নে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। অবৈধ নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করেছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে ৩৮৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে।

বসিরহাটে সর্বাধিক অনুপ্রবেশকারী:
সীমান্তবর্তী জেলা বসিরহাটে অনুপ্রবেশের ঘটনা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে তিনটি বিশেষ আটক শিবিরে বর্তমানে ৩৩৫ জন অবৈধ নাগরিককে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন মহিলা এবং ৮৮ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া মুর্শিদাবাদে ১৯ জন, মালদহে ৯ জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮ জন, বারুইপুরে ৫ জন এবং বারাসতে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। কোচবিহার, জঙ্গিপুর, সুন্দরবন, বনগাঁ ও কৃষ্ণনগরের আটক কেন্দ্রগুলিতেও ১-২ জন করে অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে।

অমিত শাহের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা:
মেদিনীপুরের জনসভা থেকে এই বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের আগের সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, বিগত দিনে অনুপ্রবেশের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। তবে বর্তমান সরকারের ডিটেনশন সেন্টার তৈরির সিদ্ধান্ত ও কড়া প্রশাসনিক তৎপরতার ফলেই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “শনাক্তকরণ অভিযান (Identification Drive) শুরু হওয়ার আগে যেসব অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি মামলা দায়ের করবে না রাজ্য সরকার। বরং তাদের সুরক্ষিতভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের সব রকম সহায়তা করা হবে।”

প্রশাসনিক চাঞ্চল্য:
কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থান এবং রাজ্য প্রশাসনের এই জোরালো পদক্ষেপে সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিটেনশন সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সরকারি আইনি প্রক্রিয়ার এই প্রয়োগ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি বাড়ানোর ফলে আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।