গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের লক্ষণগুলো চিনছেন তো? মা ও শিশুর সুরক্ষায় কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা?

গর্ভাবস্থা প্রতিটি নারীর জীবনে এক পরম আনন্দময় সময়। তবে এই সময়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে মা ও শিশুর সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। অনেক সময় মহিলারা সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন না, যা পরবর্তীকালে জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। গুরগাঁও-এর মাদারহুড হাসপাতালের কনসালটেন্ট অবস্টেট্রিশিয়ান ও গাইনোকোলজিস্ট ডঃ সোনল সিংঘল গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের ঝুঁকি ও প্রতিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সংক্রমণ চেনার উপায়:
অধিকাংশ মহিলাই ধারণা করেন, সংক্রমণ মানেই তীব্র জ্বর বা ব্যথা। কিন্তু গর্ভাবস্থায় অনেক সময় মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI) বা যোনিপথের সংক্রমণের লক্ষণ অত্যন্ত মৃদু হয় অথবা কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। তাই কোনো সমস্যা অনুভব না করলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করানো একান্ত প্রয়োজন।
সংক্রমণের ঝুঁকি:
সাধারণ কোনো সংক্রমণকেও অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা না করালে ইউটিআই (UTI), ইস্ট ইনফেকশন বা ফ্লু-এর মতো সমস্যা মা ও অনাগত শিশুর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এর ফলে:
অকাল প্রসবের (Preterm delivery) সম্ভাবনা থাকে।
নবজাতকের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।
এমনকি শিশুর মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
সতর্কতা ও প্রতিকার:
১. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়: গর্ভাবস্থায় সামান্য সর্দি-কাশি হলেও নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাবেন না। অনেক ওষুধই গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে ক্ষতি করতে পারে। যেকোনো ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. টিকা গ্রহণ: গর্ভাবস্থায় ফ্লু এবং টিটেনাসের টিকা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই টিকাগুলো মা ও শিশুকে গুরুতর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং চিকিৎসকদের মতে, এগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৩. নিয়মিত চেকআপ: নিয়মিত বিরতিতে ডাক্তারের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং শারীরিক কোনো ছোটখাটো অস্বস্তিও এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থায় সচেতনতাই হলো সুস্থ সন্তান জন্ম দেওয়ার মূল চাবিকাঠি। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে যেকোনো জটিলতা এড়িয়ে একটি আনন্দময় মাতৃত্ব উপভোগ করা সম্ভব।