নকশায় গলদ, রোজ পকেট থেকে উড়ছে ৩০০০ টাকা! দিল্লি-গুরুগ্রাম রুটের যাত্রীদের জন্য এবার বড় সুখবর!

দিল্লি ও গুরুগ্রামের মধ্যে যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীর জন্য অবশেষে এলো এক স্বস্তির খবর। দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের (Dwarka Expressway) চিলিং যানজটের স্থায়ী সমাধান করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)। এক্সপ্রেসওয়ের নকশাগত ত্রুটিগুলো দূর করে কাঠামোগত ভোলবদল করতে খুব শীঘ্রই একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক (Expert Consultant) নিয়োগ করতে চলেছে সংস্থাটি।
উত্তর ও পশ্চিম দিল্লির দ্বারকা, পালাম, উত্তম নগর এবং নজফগড়ের মতো এলাকা থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ব্যবসা ও চাকরির সূত্রে গুরুগ্রামে যাতায়াত করেন। কিন্তু এই এক্সপ্রেসওয়ের যানজটে আটকে প্রতিদিন যাত্রীদের মূল্যবান ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় নষ্ট হচ্ছিল রাস্তায়।
জ্যামের জেরে পকেট ফাঁকা! মাসে ক্ষতি ৩,০০০ টাকা
যানজটের এই নরকযন্ত্রণা শুধু সময় নষ্ট করছিল না, বরং মধ্যবিত্তের পকেটেও বড়সড় কোপ বসাচ্ছিল। দৈনিক জ্যামে আটকে থাকার কারণে গাড়িচালকদের প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকার পেট্রোল ও ডিজেল অহেতুক নষ্ট হয়। মাসের হিসেবে যা দাঁড়ায় প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা! NHAI-এর এই নতুন পদক্ষেপ সফল হলে সাধারণ মানুষ যে এই অতিরিক্ত অপচয় থেকে বড়সড় রেহাই পাবেন, তা বলাই বাহুল্য।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মারাত্মক ভুলই কি জ্যামের আসল ভিলেন?
বিশেষজ্ঞ এবং ভুক্তভোগী চালকদের মতে, দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের এই মরণফাঁদ জ্যামের পেছনে রয়েছে এক গুরুতর প্রকৌশলগত বা ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি।
আসল সমস্যা যেখানে: গুরুগ্রামের দিকে যাওয়ার সময় টানেলটি যেখানে শেষ হচ্ছে, ঠিক সেই পয়েন্টেই ধৌলা কুয়ান থেকে রাজোকরি রোডের দিকে আসা জাতীয় সড়ক ৪৮ (NH-48) এসে মিশেছে। উড়াল সড়ক হওয়ার কারণে NH-48-এ গাড়ির চাপ সবসময়ই মারাত্মক থাকে। ফলে টানেল থেকে বের হওয়া গাড়িগুলো আর সামনে এগোনোর জায়গা পায় না। এই ত্রুটিপূর্ণ সংযোগস্থলের কারণেই ব্যস্ত সময়ে এক্সপ্রেসওয়েতে মাইলের পর মাইল লম্বা গাড়ির লাইন পড়ে যায়।
মাঝরাস্তায় খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী! শুরু হচ্ছে অ্যাকশন
বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে খোদ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা ব্যস্ততম সময়ে তাঁর দলবল নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এই ব্ল্যাক স্পটটি পরিদর্শন করেছেন।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন:
“দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের এই যানজট সমস্যা সত্যিই অত্যন্ত গুরুতর। আমি নিজে স্পটে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছি। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ আর চলতে দেওয়া যায় না। যত দ্রুত সম্ভব এর স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য NHAI-কে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরামর্শকের রিপোর্ট এলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হবে।”
NHAI-এর এই হাই-প্রোফাইল হস্তক্ষেপের পর আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দিল্লি-গুরুগ্রাম রুটের এই ‘মেন রোড ব্লক’ থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন গাড়িচালকরা।