পাটখেতে পুঁতে রাখা কোটি কোটি টাকা! বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের কাণ্ডে শোরগোল, উদ্ধার ২.২৪ কোটি

ত্রিপল কাণ্ডের তদন্তে নেমে রীতিমতো ‘গুপ্তধন’-এর খোঁজ পেল পুলিশ। পাটখেতের নিচে মাটির গভীর থেকে উদ্ধার হলো ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের এই কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

কীভাবে মিলল টাকা?
সোমবার রাতে একটি হোটেল থেকে দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা ও ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, দুর্যোগে বিপন্নদের জন্য বরাদ্দ ত্রিপলগুলি তিনি অবৈধভাবে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন। সোমবারের সেই গ্রেপ্তারের সূত্র ধরেই তদন্ত এগোতে থাকে। বুধবার পুলিশ ধৃত পুরপ্রধানকে নিয়ে যায় তৃণমূল কার্যালয়ের পাশের একটি জমিতে। সেখানে পাটখেতের মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একের পর এক ব্যাগ এবং ট্রলি ভর্তি টাকা।

রাতভর টাকা গণনার মহোৎসব:
বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় টাকা উদ্ধারের কাজ। ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় টাকা গোনার একাধিক মেশিন। ব্যাঙ্ক কর্মী এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রাতভর চলে গণনা। সব মিলিয়ে মোট ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। টাকার পাশাপাশি প্রচুর নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক:
পুরপ্রধানের এহেন কীর্তিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিরোধী শিবির। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষের সুরে বলেন, ”সবাই তো আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন যে, বান্ধবীর ফ্ল্যাটে টাকা রেখে দেবেন। এই দলের অনেকেই এত টাকা করেছেন যে, কোথায় সেগুলো রাখবেন বুঝতে পারছেন না।”

তদন্তের পরবর্তী ধাপ:
টাকার উৎস কোথায় এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কি আরও কোনো গোপন জায়গায় লুকানো রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃত পুরপ্রধানকে দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারীরা। শাসকদলের এক প্রথম সারির নেতার বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ চুরির পর এই বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন পড়েছে।