‘যোগ্যতা ভাষার ওপর নির্ভর করে না’, দিল্লিতে প্রথম দিনগুলো নিয়ে বিস্ফোরক পঙ্কজ ত্রিপাঠি

অভিনয়ের জাদুতে দর্শকমন জয় করলেও, বাস্তবের পঙ্কজ ত্রিপাঠি কিন্তু বড় সাধারণ। সম্প্রতি এক পডকাস্টে জীবনের লড়াই, ইংরেজি ভাষা নিয়ে বিদ্রূপ এবং প্রযুক্তির প্রতি তাঁর বিরক্তি নিয়ে মন খুলে কথা বললেন ‘মির্জাপুর’-এর ‘কালীন ভাইয়া’।
কেন ‘গাছ’ হতে চান পঙ্কজ?
পঙ্কজ বলেন, তিনি একটি গাছ হতে চান। তাঁর কথায়, “গাছের কোনো পরিপূর্ণতা নেই, ডালপালাগুলো আঁকাবাঁকাভাবে বাড়ছে, তবুও তা দেখতে খুব সুন্দর।” জীবনের অসম্পূর্ণতাগুলোকেই তিনি ভালোবাসতে শিখেছেন।
দিল্লির সেই ‘সাংস্কৃতিক ধাক্কা’:
২০০১ সালে এনএসডি (NSD)-তে ভর্তি হওয়ার জন্য যখন প্রথম দিল্লিতে আসেন, তখন পঙ্কজকে বড়সড় ‘কালচারাল শক’ বা সাংস্কৃতিক ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল। অভিনেতা জানান, অনেকেই তাঁকে ইংরেজি না জানার জন্য বিচার করত। এমনকি অনেকে ধরে নিত, ইংরেজি বলতে না পারলে সেই ব্যক্তি নিশ্চয়ই গরিব পরিবার থেকে এসেছে। পঙ্কজের স্পষ্ট বার্তা, “কেউ কোন ভাষায় কথা বলছে, তার ওপর ভিত্তি করে তাঁর যোগ্যতা বিচার করা বোকামি। ভাষার সঙ্গে মেধার কোনো সম্পর্ক নেই।”
এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করার উপায় হিসেবে পঙ্কজ বেছে নিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাসকে। তিনি বলেন, “আমি হীনমন্যতায় ভুগিনি। আমি জানতাম আমার ব্যক্তিত্ব অসাধারণ। কেউ যদি তা বুঝতে না পারে, তবে সেটা তাঁর সমস্যা।”
মোবাইল বনাম জীবন:
প্রযুক্তির প্রতি পঙ্কজের চরম অনীহা এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে তিনি বিরক্ত। পঙ্কজের আক্ষেপ, “মোবাইল আজ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না।” তাঁর কাছে মোবাইল মানেই অকারণে সময়ের অপচয়। তিনি পাঠকদের পরামর্শ দিয়েছেন, ফোনের পেছনে সময় নষ্ট না করে বই পড়ুন, ঘাসের ওপর হাঁটুন এবং গাছপালা দেখুন। এমনকি তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে তিনি গোটা বিশ্বকে ‘মোবাইল-মুক্ত’ করে দিতেন বলেও জানান অভিনেতা।
অর্থাৎ, গ্ল্যামারের দুনিয়ায় থেকেও পঙ্কজ ত্রিপাঠি আজও যে শিকড়কে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পছন্দ করেন, তা তাঁর এই মন্তব্যে আরও একবার প্রমাণিত।