বন্ধুর দিকেই বন্দুক! ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজে কি যুদ্ধের দামামা?

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমোজ প্রণালীর দখল নিয়ে সংঘাত নতুন কিছু নয়। তবে এবার পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে। দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র ওমানকে সরাসরি সামরিক আক্রমণের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
হরমোজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বা টোল আরোপের মতো ইস্যুতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ওমানকে সতর্ক করে বলেছেন, “যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে আমেরিকা কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।” ওমানের উদ্দেশে ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি— “ওদের উড়িয়ে দেব”— আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

কেন এই ক্ষোভ?
১. আন্তর্জাতিক জলপথ: ট্রাম্পের দাবি, হরমোজ প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। সেখানে কোনো একক দেশের আধিপত্য বা টোল বসানো যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।
২. তেল বাণিজ্যে অস্থিরতা: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট এই হরমোজ প্রণালী। এখানে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।
৩. মধ্যস্থতার প্রশ্ন: ওমান এতদিন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ‘শান্তি দূত’ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ওমানের অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্পের এই কড়া প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ।

বিশ্ব রাজনীতিতে উদ্বেগের ছায়া:
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের ‘কূটনৈতিক আগ্রাসন’ পশ্চিম এশিয়ার জটিল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ওমানকে সরাসরি হুমকি দেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো বন্ধুত্বের সমীকরণ নতুন করে ধাক্কা খেল। যদিও মার্কিন প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সামরিক অভিযানের ঘোষণা করা হয়নি, তবুও ওমানের মতো বন্ধুরাষ্ট্রকে দেওয়া এই হুমকি যে এক নতুন কূটনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত, তা বলাই বাহুল্য।

হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতা এবং ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন মন্তব্য আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।