১২ বছর পর মুখোমুখি মোদি-বিজয়! তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর ঘিরেই তুঙ্গে জল্পনা

দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের এক ফ্রেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও থলপতি বিজয়। তবে এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির নতুন মুখ হিসেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর, প্রথমবার দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ মিনিটের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন বিজয়। বুধবারের এই সাক্ষাৎ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।

বৈঠকের নেপথ্যে কী:
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে মূলত তামিলনাড়ুর সার্বিক উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং রাজ্যের প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। তবে এই বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল:

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি: নেদারল্যান্ডস থেকে চোল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক তাম্রলিপি ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান বিজয়।

বিতর্ক নিরসন: শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গান ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি কৌশলী বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দিল্লি সফরে বিজয়ের পরবর্তী ধাপ:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিজয় দিল্লির তামিলনাড়ু হাউসে পৌঁছালে তাঁকে গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। খবর অনুযায়ী, নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে চলেছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ:
তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কংগ্রেস, বামদল, ভিসিকে এবং মুসলিম লিগের সমর্থনে সরকার গড়েছেন থলপতি বিজয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয়ের এই দিল্লি সফর প্রমাণ করছে যে, তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান অত্যন্ত সাবধানে ও কৌশলে সাজাতে চাইছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতে বিজেপির প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

এমজিআর বা জয়ললিতার মতো রুপোলি পর্দা থেকে উঠে আসা নেতাদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের পথে হেঁটে, থলপতি বিজয় কি তামিল রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করতে চলেছেন? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।