ইতিহাস গড়ল ভারত! এবার বেসরকারি হাতেই তৈরি হবে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে মোদী সরকার। এতদিন যুদ্ধবিমান নির্মাণের ভার মূলত সরকারি সংস্থা ‘হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড’ (HAL)-এর হাতে থাকলেও, এবার সেই একাধিপত্য ভেঙে বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীকে বড় দায়িত্ব দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের (5th Generation) স্টেলথ ফাইটার জেট তৈরির মূল কারিগর হতে চলেছে টাটা, লারসেন অ্যান্ড টুবরো (L&T) এবং ভারত ফোর্জ।

১৫ হাজার কোটির মেগা প্রজেক্ট:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৫টি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) তৈরি করা হবে। এই বিমানগুলি হবে সম্পূর্ণ স্টেলথ প্রযুক্তিনির্ভর, যা শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব।

প্রকল্পের বিশেষ দিকগুলো:

তত্ত্বাবধানে DRDO: বিমান তৈরির প্রযুক্তি ও নকশার দায়িত্ব থাকবে ডিআরডিও-র হাতে। বেসরকারি সংস্থাগুলি মূলত উৎপাদনের মূল কাঠামোটি সামলাবে।

উৎপাদন কেন্দ্র: সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশে এই আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য নতুন কারখানা গড়ে উঠতে পারে।

মারাত্মক ক্ষমতা: এই যুদ্ধবিমান ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারবে এবং ৭ হাজার কেজি পর্যন্ত অস্ত্র বহন করতে সক্ষম হবে। এতে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়।

সময়সীমা: আগামী বছরের শুরুতেই প্রোটোটাইপ তৈরির কাজ শুরু হবে এবং ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে ভারতের নিজস্ব স্টেলথ ফাইটার জেট আকাশে ওড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের (আমেরিকা, রাশিয়া ও চিন) হাতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান রয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপ সফল হলে বিশ্বমঞ্চে চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারত এই বিশেষ ক্লাবে জায়গা করে নেবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রস্তুতির জবাব দিতে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা:
বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে এই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মডেলকে গেমে-চেঞ্জার হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে সাবমেরিন, মিসাইল ও অত্যাধুনিক ড্রোনের মতো সামরিক সরঞ্জামও বেসরকারি ক্ষেত্রে তৈরির পথ প্রশস্ত হবে। রাফালে কেনার পরিকল্পনার পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় ভারতের এই ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিরক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত খুলে দিল।