মালদ্বীপের ধাঁচে লাক্ষাদ্বীপ! সি-প্লেন পরিষেবায় পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলছে ভারত

ফিরোজা রঙের সমুদ্র আর স্ফটিক-স্বচ্ছ জলের লাক্ষাদ্বীপ এখন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবার আর দীর্ঘ জাহাজযাত্রা বা সীমিত ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকতে হবে না পর্যটকদের। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জে সি-প্লেন পরিষেবা চালু হওয়ার প্রক্রিয়া এক বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশ:
সিএনএন-নিউজ ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, লাক্ষাদ্বীপের ৬টি দ্বীপে “ওয়াটার অ্যারোড্রোম” তৈরির প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্রের সুপারিশ করেছে। কোচির সঙ্গে কাভারাত্তি, কালপেনি, কিলতান, কাদমাত, মিনিকয় এবং আগাত্তিকে সি-প্লেনের মাধ্যমে সংযুক্ত করার এই নেটওয়ার্কটি পর্যটন মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে।

সাফল্যের সঙ্গে পরীক্ষামূলক উড়ান:
ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ১৩ মে, একটি DHC6-400 টুইন অটার বিমান ব্যবহার করে কোচি ও লাক্ষাদ্বীপের মধ্যে সর্বপ্রথম সি-প্লেনের পরীক্ষামূলক উড়ান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিমানটি সফলভাবে আগাত্তি এবং কাভারাত্তির উপহ্রদে অবতরণ করে, যা লাক্ষাদ্বীপের পরিবহণ ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

কী থাকছে এই ‘জল বিমানবন্দর’-এ?
প্রচলিত বিমানবন্দরের মতো বিশাল অবকাঠামো নয়, বরং যাত্রী টার্মিনাল, ভাসমান হাঁটার পথ এবং সি-প্লেন ডকিংয়ের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা সুবিধাসম্পন্ন ছোট ছোট ‘ওয়াটার অ্যারোড্রোম’ তৈরি করা হবে।

পর্যটনের বড় রূপান্তর:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর থেকে এই দ্বীপপুঞ্জের প্রতি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আগ্রহ তুঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের মতে:

কাভারাত্তি: এখানে বার্ষিক ১৬,০০০-এর বেশি পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যান্য দ্বীপ: আগাত্তি, কালপেনি ও কিলতানেও প্রতিটিতে বছরে প্রায় ৮,০০০ পর্যটক যাতায়াত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মালদ্বীপের মতো দ্বীপ পর্যটনের মডেলকে অনুসরণ করেই এই প্রকল্পটিকে সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে দুর্গম বা যাতায়াতে সময়সাপেক্ষ এই দ্বীপগুলোতে সি-প্লেন পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের ভ্রমণের সময় অনেক কমে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পর্যটন মানচিত্রে লাক্ষাদ্বীপ যে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।