তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাগাল পেতাম না এই নেতাদের জন্য: বিস্ফোরক সুশান্ত ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চরম অস্বস্তি। কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। শুধু তিনিই নন, অ্যাকাউন্টস কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন অরূপ চক্রবর্তীও। বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতা পুরসভার অন্দরে পর পর এই ইস্তফা শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেন এই পদত্যাগ? নিজের ইস্তফার পেছনে সুশান্ত ঘোষ সরাসরি আঙুল তুলেছেন দলের এক শ্রেণির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, “গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহ ও প্রশ্রয় পাওয়া তথাকথিত নেতারা শুধু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। অথচ বিপদের সময় তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।”
সুশান্ত ঘোষের করা বড় অভিযোগসমূহ:
-
নেতাদের গাফিলতি: গত ২৪-২৫ দিনে কোনো মন্ত্রীকে এলাকায় দেখা যায়নি। অথচ নির্বাচনের আগে তাঁরা কনভয় নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন।
-
নেত্রীর থেকে দূরত্ব: সুশান্তের আক্ষেপ, “এই নেতাদের জন্যই আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছাতে পারতাম না।”
-
জনতার রায়: নিজের এলাকায় দলের পরাজয় মেনে নিয়ে সুশান্ত বলেন, “মানুষ আমাদের চায়নি, তাই আমি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছি। যাঁদের মানুষ জিতিয়েছে, তাঁদেরই কাজ করা উচিত।”
কাউন্সিলর পদ কেন ছাড়লেন না? চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেও এখনই কাউন্সিলর পদ ছাড়ছেন না সুশান্ত। তিনি জানিয়েছেন, “মানুষ আমাদের ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে। মানুষ যদি চায়, তবেই আমি কাউন্সিলর পদে থাকব। অন্যথায় ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগ করতে আমি প্রস্তুত।”
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও আতঙ্কের অভিযোগ: নিজের ওয়ার্ডে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হওয়ার কথা স্বীকার করে সুশান্ত জানান, অতীতে তাঁকে গুলি করার চেষ্টাও করা হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি, নিজের এলাকায় হওয়া অশান্তি ও রাজনৈতিক কর্মীদের মামলা থেকে বাঁচাতে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন এই তৃণমূল নেতা।
এই ঘটনা যে কলকাতার রাজনীতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিদ্রোহকে কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।