অসম বিধানসভায় পাশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি! হিমন্তের ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এ কোণঠাসা বিরোধীরা?

ভারতের রাজনৈতিক আঙিনায় ফের এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল অসম। প্রবল বিরোধীদের প্রতিবাদ, হট্টগোল এবং তুমুল বিতর্ককে কার্যত অগ্রাহ্য করেই অসম বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।

বিধানসভায় যা ঘটল: বুধবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিলটিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিরোধী দলগুলির দাবি ছিল, এই বিল রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত আইন ও সংস্কৃতিতে আঘাত হানতে পারে। তবে সরকারের তরফে দাবি করা হয়, দেশের সংবিধানের আদর্শ মেনে এবং রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতেই এই আইন আনা হয়েছে। বিরোধীদের তুমুল হইহট্টগোলের মাঝেই ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশ করিয়ে নেয় শাসক দল।

কেন এই আইন? মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দীর্ঘ দিন ধরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সপক্ষে সওয়াল করে আসছেন। সরকারের দাবি:

  • এই আইনের মাধ্যমে রাজ্যের সকল নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের মতো বিষয়গুলোতে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি হবে।

  • এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের ঐক্যের স্বার্থে জরুরি।

বিতর্ক ও বিরোধীদের অবস্থান: বিরোধীরা এই বিলকে ‘বিভাজনকারী’ বলে তকমা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতি করতেই এই বিল তড়িঘড়ি আনা হয়েছে। বিধানসভার অন্দরে ওয়াকআউট ও বিক্ষোভ দেখালেও সরকারের অনড় অবস্থানের কাছে শেষ পর্যন্ত তাদের আপত্তি পাত্তা পায়নি।

পরবর্তী ধাপ: বিধানসভায় বিল পাশ হওয়ার পর এখন এটি অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। যদিও আইনটির চূড়ান্ত রূপরেখা এবং তা কীভাবে রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় জনতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ।