শত্রুর জ্যামিংয়েও অজেয় সুখোই! ২৫৮টি যুদ্ধবিমানের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ২৫৮টি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে নতুন ও উন্নত ‘অ্যান্টি-জ্যামিং’ এবং ‘অ্যান্টি-স্পুফিং’ নেভিগেশন সিস্টেম বসানোর জন্য দরপত্র বা টেন্ডার জারি করা হয়েছে। এর ফলে শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধের (Electronic Warfare) মুখেও যুদ্ধবিমানগুলি নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারবে।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
স্বদেশী প্রযুক্তির ব্যবহার: এই নতুন সিস্টেমে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-এর পাশাপাশি জিপিএস (GPS), গ্লোনাস, বেইডু এবং গ্যালিলিও-র মতো একাধিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সংযুক্ত থাকবে।
শত্রুর জ্যামিং ব্যর্থ: উন্নত এই অ্যান্টেনা ইউনিট শত্রুপক্ষের সিগন্যাল জ্যামিং করার সব চেষ্টাকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।
চরম প্রতিকূলতায় কার্যকর: সিস্টেমটি ২১ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতা, ম্যাক ১.৫ গতি এবং -২জি থেকে ৯জি (G-force) পর্যন্ত চাপে নির্ভুলভাবে কাজ করবে।
প্রকল্পের সময়সীমা ও লক্ষ্য:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আরএফপি (RFP) অনুযায়ী, এই পুরো প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হতে প্রায় ২৪ মাস বা দুই বছর সময় লাগবে।
সরবরাহ: প্রকল্পের অধীনে ৩০০টি অ্যান্টেনা সিস্টেম, ৫০টি ফিল্ড লেভেল টেস্টার এবং ১০টি বেস লেভেল টেস্টার সরবরাহ করা হবে।
নির্ধারিত সময়: কারিগরি ও আর্থিক দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২২ জুন, ২০২৬। সব ঠিক থাকলে, ২০২৮ সালের শেষ বা ২০২৯ সালের শুরুর দিকেই ভারতীয় বিমানবাহিনীর অধিকাংশ সুখোই যুদ্ধবিমান এই নতুন ব্যবস্থায় সজ্জিত হবে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-য় উৎসাহ:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় প্রযুক্তির উৎকর্ষ প্রমাণিত হবে। দুটি বিমানে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর সমগ্র বিমানবহরে এই প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে এবং বায়ুসেনার কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় সুখোই-৩০ এমকেআই-এর এই আপগ্রেড নিঃসন্দেহে প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় বায়ুসেনাকে অনেক ধাপ এগিয়ে রাখবে।