চিনের ‘দাদাগিরি’র দিন শেষ! ভারত-আমেরিকার ঐতিহাসিক চুক্তিতে কোণঠাসা বেজিং

বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) বাজারে চিনের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে বড়সড় চাল দিল ভারত ও আমেরিকা। দিল্লিতে কোয়াড (Quad) বৈঠকের ফাঁকে হায়দরাবাদ হাউসে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ (Critical Minerals) ও ‘রেয়ার আর্থ’ (Rare Earths) উপাদানের সরবরাহ সুরক্ষিত রাখাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
চুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ? স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, আবার বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি থেকে উইন্ড টারবাইন—সব ক্ষেত্রেই এই রেয়ার আর্থ খনিজগুলি অপরিহার্য। বর্তমানে এই খনিজ সরবরাহের সিংহভাগই চিনের নিয়ন্ত্রণে। বেজিং প্রায়শই এই সাপ্লাই চেইনকে হাতিয়ার করে অন্যান্য দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সেই নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে ভারত ও আমেরিকা।
জয়শঙ্কর ও রুবিওর বার্তা: ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চুক্তির পর জানিয়েছেন, “আমরা ক্রিটিক্যাল মিনারেলস এবং রেয়ার আর্থের মাইনিং, প্রসেসিং ও সাপ্লাই চেইন সুরক্ষিত করতে যৌথ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছি। এতে খনন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ ও রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথ বিনিয়োগ করবে।”
অন্যদিকে, আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি হোক বা সাধারণ সময়, কেউ যেন এই খনিজকে হাতিয়ার করে আমাদের অর্থনীতিকে ব্ল্যাকমেল করতে না পারে।” তাঁর এই মন্তব্য যে সরাসরি চিনের দিকেই ইঙ্গিত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভারতের প্রযুক্তিশিল্পে প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে:
-
নিরাপদ সাপ্লাই চেইন: ভারত ও আমেরিকা নিরাপদ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই খনিজ নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করবে।
-
শিল্পে জোয়ার: ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে কাঁচামালের অভাব কমবে।
-
বেজিংয়ের দাপট হ্রাস: বিশ্ব বাজারে খনিজ বাণিজ্যে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য কমবে, যা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
দিল্লির এই বৈঠক ও চুক্তি স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত ও আমেরিকা এখন শুধু সামরিক নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই চুক্তিকে ভারতের এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।