‘পড়াশোনা করে না ছেলে’-বাবার ডায়েরিতে জেনেনিন অজানা স্টিফেন হকিং -কে

বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন ‘মাটির দিকে না তাকিয়ে তারার দিকে তাকাতে’, সেই মহান বিজ্ঞানীর ছাত্রজীবন যে আদৌ মসৃণ ছিল না, তা উঠে এসেছে তার বাবা ফ্র্যাঙ্ক হকিংয়ের গোপন ডায়েরি থেকে। সম্প্রতি জীবনীকার গ্রাহাম ফারমেলো হকিং পরিবারের সংরক্ষিত নথিপত্র ও ডায়েরিগুলোর সংকেত বা কোড উদ্ধার করে এই অজানা তথ্যগুলো সামনে এনেছেন।
বাবা ফ্র্যাঙ্কের আক্ষেপ: ১৯৬১ সালের দিকে নিজের ডায়েরিতে ফ্র্যাঙ্ক হকিং আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, “স্টিভেনকে নিয়ে আমরা চিন্তিত। সে কোনো উদ্যোগ ছাড়াই অলসভাবে ঘরে ঘুরে বেড়ায়, পড়াশোনায় তেমন মন নেই।” ছেলের অক্সফোর্ড জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে বাবা ফ্র্যাঙ্ক রীতিমতো হতাশ ছিলেন। এমনকি হকিংয়ের মা ইসোবেলের মতে, স্টিভেনের মধ্যে বাবার প্রতি একধরনের হীনম্মন্যতাও কাজ করত। ফ্র্যাঙ্ক তখন কল্পনাও করতে পারেননি যে, এই ‘অলস’ ছেলেটিই ভবিষ্যতে ব্ল্যাক হোল তত্ত্বের জনক হবেন।
গোপন ডায়েরির রহস্য: ফ্র্যাঙ্ক হকিং টানা ৬০ বছর ডায়েরি লিখেছিলেন, যার বড় অংশই ছিল গ্রিক বর্ণমালার কোডে লেখা। প্রাইভেসি বজায় রাখতে তিনি এভাবে নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি লিখে রাখতেন। জীবনীকার গ্রাহাম ফারমেলো সেই ২ লক্ষাধিক শব্দের কোড অনুবাদ করে হকিংয়ের শৈশব থেকে শুরু করে তার অসুস্থতার যন্ত্রণা পর্যন্ত সব তথ্যের খাঁটি ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছেন।
অসুস্থতার সেই কঠিন দিনগুলো: ডায়েরিতে হকিংয়ের অসুস্থতার প্রতি বাবার অসহায়ত্বও ফুটে উঠেছে। ১৯৬৩ সালে মোটর নিউরন রোগ ধরা পড়ার পর ডাক্তাররা বলেছিলেন হকিং বড়জোর দুই বছর বাঁচবেন। ১৯৬৭ সালের একটি ডায়েরি এন্ট্রি অনুযায়ী, ফ্র্যাঙ্ক লিখেছিলেন, “স্টিভেনের সঙ্গে সময় কাটানো আমার কাছে ধীর ও ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা। ওর কথা বলা এতই কষ্টসাধ্য যে কথাবার্তা চালানো দুষ্কর। ওর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়।”
হকিংয়ের জীবনের লড়াই: চিকিৎসকদের সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে হকিং ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিজের জীবনের কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে হকিং বলেছিলেন, “২১ বছর বয়সে আমার সব প্রত্যাশা শূন্যে নেমে এসেছিল। এরপর যা কিছু পেয়েছি, তার সবই আমার বোনাস বা বাড়তি পাওয়া।”
নতুন জীবনীগ্রন্থ: গ্রাহাম ফারমেলো হকিংয়ের পরিবার, তার প্রথম স্ত্রী জেন এবং সন্তানদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। ‘হকিং’ শিরোনামের এই বইটি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ‘জন মারে’ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এই বইয়ে প্রবাদপ্রতিম এই বিজ্ঞানীর মেধা এবং তার জীবনের সেই লড়াইয়ের চিত্র উঠে আসবে, যা এতদিন ছিল পর্দার আড়ালে।