সিবিএসই-র মার্কিংয়ে বড় জালিয়াতি? ওএসএম সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দিগ্বিজয় সিং

সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থা বা ওএসএম (অন-স্ক্রিন মার্কিং) সিস্টেম ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ঝাপসা উত্তরপত্র, নম্বর কারচুপি এবং খাতা বদলের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় বোর্ডটির স্বচ্ছতা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং।

দিগ্বিজয় সিংয়ের তোপ:
শিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দিগ্বিজয় সিং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সুরক্ষা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, এই ওএসএম সিস্টেম কারা ডিজাইন করেছে এবং এর সরবরাহকারী সংস্থাই বা কারা? তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা কতটুকু? আগামী ১ জুন এই বিষয়ে সিবিএসই আধিকারিকদের তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগগুলো কী কী?
এ বছরই সিবিএসই ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা বড় পরিসরে চালু করেছে। তবে পোর্টাল চালুর পর থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একের পর এক অভিযোগ আসতে শুরু করে:

অস্পষ্ট কপি: অনেক শিক্ষার্থীই তাদের উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি দেখতে পাচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ পেয়েছেন ঝাপসা কপি।

খাতা বদলের অভিযোগ: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত খাতাগুলোর সাথে নিজেদের উত্তরপত্রের মিল নেই। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের খাতা বদলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নম্বরের বড় ধরনের তারতম্য হয়েছে।

টেকনিক্যাল জটিলতা: পোর্টালটি ঠিকঠাক কাজ করছে না এবং টাকা পরিশোধের পরেও নথি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

অস্থিরতা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে:
পরীক্ষার্থীদের দাবি, এই ডিজিটাল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের উত্তরপত্রের অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন অভিভাবকরাও।

এখন ১ জুন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সিবিএসই কী উত্তর দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। বোর্ডের এই ব্যর্থতা কি তাদের ওপর থেকে বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোপুরি কমিয়ে দেবে—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।