চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য দারুণ সুখবর! নতুন নিয়মে এবার নিশ্চিত ২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি

দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির অপেক্ষায় থাকা ঠিকাদার বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। ‘পেশাগত সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ (ওএসএইচডব্লিউসি) কেন্দ্রীয় বিধিমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এবার নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মীর জন্য বছরে ন্যূনতম ২ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। গত ৮ই মে, ২০২৬ তারিখে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মরত হাজার হাজার কর্মীর আর্থিক নিরাপত্তার নতুন পথ খুলেছে।

কী বলছে নতুন নিয়ম ১৮৫?
নতুন বিধিমালার ১৮৫ নম্বর ধারায় ঠিকাদার বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত কর্মীদের জন্য এই বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত, বছরের পর বছর চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন একই জায়গায় থমকে আছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কাজ করা চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এখন থেকে প্রতি বছর অন্তত ২ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির অধিকারী হবেন। অর্থাৎ, কোনো সংস্থার বেতন কাঠামোর নীতি থাকুক বা না থাকুক, ঠিকাদার বা নিয়োগকর্তা এই ন্যূনতম হার বৃদ্ধি করতে বাধ্য থাকবেন।

কাদের জন্য এই সুযোগ?
এই নতুন নিয়মের সুফল মূলত পাবেন সেইসব কর্মীরা, যারা সরাসরি কোম্পানির বেতন তালিকায় নেই, বরং কোনো তৃতীয় পক্ষ বা ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করছেন। শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানই তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।

স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে কী হবে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, স্থায়ী কর্মীরা কি এই সুবিধা পাবেন? উত্তর হলো— না। এই নিয়মটি কেবলমাত্র ঠিকাদারের অধীনে কর্মরতদের জন্যই প্রযোজ্য। কোম্পানির সরাসরি বেতনভুক্ত বা স্থায়ী কর্মীদের জন্য এই ২ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে না।

কোথায় কার্যকর হবে এই নিয়ম?
বর্তমানে এই নতুন শ্রম আইন দেশজুড়ে সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। যে সকল প্রতিষ্ঠানের ‘উপযুক্ত সরকার’ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার কাজ করে, শুধুমাত্র সেখানেই এটি প্রযোজ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

রেলওয়ে, খনি ও তেলক্ষেত্র

ব্যাংক, বিমা সংস্থা ও টেলিকম

বিমান পরিবহন ও প্রধান বন্দরসমূহ

কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা (PSU) এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান

রাজ্য সরকারি কর্মীদের কী হবে?
আপনি যদি রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কোনো প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করেন, তবে সরাসরি এই আইনের আওতায় সুবিধা মিলবে না। রাজ্য সরকারগুলি তাদের নিজস্ব স্তরে পৃথকভাবে নিয়ম জারি করলেই কেবল সেই রাজ্যগুলির কর্মীরা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।