মোথাবাড়িতে বিচারকদের জিম্মি কাণ্ড! এনআইএ-এর জালে আরও ১৪, গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

মালদার মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা ও সরকারি কাজে বাধার ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল এনআইএ (NIA)। সোমবার গভীর রাতে কালিয়াচক ও মোথাবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৮।

প্রেক্ষাপট: কী ঘটেছিল গত ১ এপ্রিল?
রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম পুনর্বিবেচনা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন জেলার ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। অভিযোগ, গত ১ এপ্রিল মোথাবাড়িতে ট্রাইব্যুনাল চলাকালীন স্থানীয় সংখ্যালঘুরা ওই বিচারকদের প্রায় ৯ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে বাঁশ-লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়।

তদন্তের মোড়:
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও, পরে সন্ত্রাস যোগের আশঙ্কায় এনআইএ-কে তদন্তভার সঁপে দেওয়া হয়। এনআইএ তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই মোথাবাড়ির আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদরি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য গোলাম রব্বানিকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া, মূল চক্রী হিসেবে চিহ্নিত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকেও এর আগে সিআইডি গ্রেফতার করেছিল।

তদন্তের গভীরতা:
এনআইএ-এর নজরে রয়েছে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে মোফাক্কেরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিদের নিয়মিত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যাতায়াত এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী সংযোগ আছে কি না, তা নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে। সোমবার রাতের এই নতুন গ্রেফতারি তদন্তের পরিধি যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। বিচারকদের মতো সংবেদনশীল পদে থাকা আধিকারিকদের জিম্মি করার এই সাহস কে বা কারা দিল, তার শিকড় সন্ধানেই এখন মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।